দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোর অপবাদ দিয়ে এক বৃদ্ধাকে সালিশি সভায় জরিমানার পাশাপাশি মারধরের নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপপ্রধানের বিরুদ্ধে। এই ঘটনার চার দিন পরে অপমানে আত্মঘাতী হলেন ওই বৃদ্ধা।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর দিনাজপুর জেলার কালিয়াগঞ্জ থানার বরুণা গ্রাম পঞ্চায়েতের মাজিয়ার গ্রামে। অভিযোগ, প্রকাশ্য দিবালোকে সালিশি সভায় ওই বৃদ্ধাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারধরের নির্দেশ দিয়েছিলেন বিজেপির টিকিটে জেতা উপপ্রধান ননীগোপাল মণ্ডল। জরিমানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল বৃদ্ধাকে। এই নির্দেশের পরেই ওই বৃদ্ধাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনার পরেই আত্মঘাতী হন তিনি।
সূত্রের খবর, গত বুধবার সকালে প্রতিবেশীর জমি থেকে পেঁয়াজ চুরি করার অভিযোগ ওঠে ওই বৃদ্ধার উপর। এই অভিযোগের পরেই সালিশি সভা ডাকেন উপপ্রধান ননীগোপাল মণ্ডল। সেখানে চুরির অপরাধে বৃদ্ধাকে ৮ দিনের মধ্যে জমির মালিককে ১৫ হাজার টাকা ও পঞ্চায়েতকে ১০ হাজার টাকা জরিমানার নির্দেশ দেওয়া হয়। তারপর বৃদ্ধার জামাইকে খবর দিলে তিনি এসে অনেক কাকুতি মিনতি করে জরিমানার অঙ্ক ১৪ হাজার টাকায় নামিয়ে আনেন।
বৃদ্ধার পরিবারের অভিযোগ, জরিমানার টাকা কমে যাওয়ায় বৃদ্ধাকে ল্যাম্পপোস্টে বেঁধে মারধরের নির্দেশ দেন উপপ্রধান। সেইমতো তাঁকে মারধর করা হয়। এই ঘটনার পর থেকেই নিজেকে গৃহবন্দি করে নিয়েছিলেন ওই বৃদ্ধা। অবশেষে রবিবার ঘর থেকে বৃদ্ধার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, মারধরের অপমান সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন তিনি।
বৃদ্ধার মৃত্যুর পরে খবর দেওয়া হয় দিল্লিতে শ্রমিকের কাজ করা তাঁর ছেলেকে। বৃদ্ধার মেয়ে অভিযোগ দায়ের করেছেন কালিয়াগঞ্জ থানায়। পুলিশ এসে বৃদ্ধার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে গিয়েছে। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। গ্রামবাসীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কিন্তু বেশিরভাগই মুখ খুলতে নারাজ। অন্যদিকে বিজেপির টিকিটে জেতা উপপ্রধান ননীগোপাল মণ্ডল জানিয়েছেন, সালিশি সভা হয়েছিল, কিন্তু জরিমানা বা মারধর কিছু করা হয়নি। এইসব অভিযোগ মিথ্যে।
অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও অনেকবার স্থানীয় নেতা, পঞ্চায়েত প্রধান বা উপপ্রধানের বিরুদ্ধে সালিশি সভার অভিযোগ উঠেছে। কখনও তাতে শাসক দলের নাম জড়িয়েছে, বা কখনও বিরোধীদের। গত বছর অগস্ট মাসে রাজ্য বিধানসভায় গণপিটুনি বিরোধী বিলও পাশ করেছে রাজ্য সরকার। স্পষ্ট বলা হয়েছে, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তারপরেও এইসব ঘটনা কমছে না। কোথাও প্রকাশ্যে শিক্ষিকার পা বেঁধে টেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তো কোথাও বৃদ্ধাকে সালিশিতে মারধরের অভিযোগ উঠছে। এইসব ঘটনায় বারবার প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের ব্যর্থতার দিকেই।