দ্য ওয়াল ব্যুরো: মান্নান সাহেব যেন মুখিয়ে ছিলেন জবাব দিতে। ‘শতাব্দী’ নামটা শুনেই বললেন, ‘দ্যাখ কেমন লাগে!’
শুক্রবার কংগ্রেসের প্রতিবাদ মিছিলে লম্বা হেঁটেছেন আবদুল মান্নান। তার পর বলেন, ‘আমি তো বলেইছিলাম, দলটাই উঠে যাবে’।
শুধু কংগ্রেসের মধ্যে কেন, এদিন রাজ্য রাজনীতিতে আলোচনার মুখ্য বিষয়ই ছিলেন তৃণমূলের সাংসদ শতাব্দী রায়। সেই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে, একুশেই কি লোকসভায় কুড়ির নিচে নেমে যেতে পারে তৃণমূল। বিজেপি যে সেই চেষ্টা অনবরত চালিয়ে যাচ্ছে সে বিষয়ে অনেকেরই কোনও সন্দেহ নেই।
লোকসভা ভোটে বাংলায় ১৮ টি আসনে জিতেছিল বিজেপি। তৃণমূল জিতেছিল ২২ টি আসনে। ইতিমধ্যে পূর্ব বর্ধমানের তৃণমূল সাংসদ সুনীল মণ্ডল যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। অর্থাৎ বিজেপি শিবিরে সাংসদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯। তৃণমূল শিবিরে লোকসভা সাংসদের সংখ্যা এখন ২১। সুনীল মণ্ডলের মতোই এর পর শতাব্দী রায়ও যদি বিজেপিতে যোগ দেন, তা হলেই বাংলায় দুই যুযুধান দলের সাংসদ সংখ্যা হয়ে যাবে একই। অনেকের কথায়, টোয়েন্টি-টোয়েন্টি।
রাজ্য বিজেপির এক শীর্ষ সারির নেতার দাবি, আরও দুই তৃণমূল সাংসদ তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগে রয়েছেন। একুশের ভোটের আগে তাঁরা বিজেপিতে সামিল হতে পারেন। তা ছাড়া কাঁথির সাংসদ শিশির অধিকারী ও তমলুকের সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারীকে তৃণমূলই যে হিসাবের মধ্যে ধরছে না তাও পরিষ্কার। ফলে বাংলা বিজেপিতে সাংসদের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াতে পারে ২৪। তৃণমূলের সাংসদ সংখ্যা কমে দাঁড়াতে পারে ১৬।
একই মডেল
সংসদীয় গণতন্ত্রের নিয়ম অনুযায়ী অবশ্য এ ভাবে হিসাব করা যায় না। কারণ, আইনসভার কোনও সদস্যকে তাঁর পুরনো দল বহিষ্কার না করলে সরকারি ভাবে তিনি নতুন দলের সাংসদ হিসাবে বিবেচিত হতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে হয় তাঁকে পুরনো দলের সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নতুন করে জিতে আসতে হবে। অথবা পুরনো দল তাঁকে বহিষ্কার করলে তাঁর সদস্য পদ টিকে থাকবে।
পর্যবেক্ষকদের অনেকের মতে, আসলে মডেলটা একই রকম। ষোল সালের বিধানসভা ভোটে ২১১ টি আসনে জিতেছিল তৃণমূল। কিন্তু বিধানসভার খাতায় যাই থাকুক কংগ্রেস, বামেদের প্রায় দুই ডজন বিধায়ককে দলে সামিল করিয়ে তৃণমূল এখন আর ২২১ বিধায়কের দল নেই। তার থেকে আড়ে বহরে বড়। শঙ্কর সিংহের মতো কংগ্রেস বিধায়করা তৃণমূলের সাংগঠনিক পদ পর্যন্ত পেয়েছেন। দলবিরোধী কাজের জন্য তাঁদের বিধানসভার সদস্য পদ খারিজ করার আবেদন জানিয়েছিল কংগ্রেস। তারও কোনও গতি হয়নি।
ফলে সুনীল মণ্ডল বা তাঁর মতো কেউ বিজেপিতে গেলে এরকমই হতে পারে। অর্থাৎ খাতায় কলমে হয়তো তৃণমূলেরই সাংসদ হিসাবে থেকে যাবেন বাকি মেয়াদ। কিন্তু বিজেপির রাজনীতি করে যাবেন।
শুক্রবার সম্ভবত সেই কারণেই মান্নান সাহেব বলেছেন, ‘দ্যাখ কেমন লাগে’!
তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক অবশ্য দাবি করেছেন, কমা তো দূরের কথা উল্টে তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন ৬ থেকে ৭ জন বিজেপি সাংসদ। সেই সম্ভাব্যদের তালিকায় কে কে রয়েছেন, সেই তাস অবশ্য গোপন রেখেছেন জ্যোতিপ্রিয়।