দ্য ওয়াল ব্যুরো: তখন সবে ভোটের ময়দান তাততে শুরু করেছে। ২৬ মার্চ বিকেলে বসিরহাট কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সায়ন্তন বসু আগুন ঝরানো বক্তৃতা করে বিপাকে পড়েছিলেন। বলেছিলেন, “বুথ দখল করতে এলে সিআরপিএফ-কে বলে দেব যেন বুকে গুলি করে।” এরপর নির্বাচন কমিশন শোকজ করে তাঁকে। কিন্তু ভোটের ছ’দিন আগে ফের একই কথা বলে বিতর্কে জড়ালেন সায়ন্তন।
সোমবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “তৃণমূল সন্ত্রাস করছে। এখন দুটো রাস্তা আছে। হয় কেন্দ্রীয় বাহিনী ব্যবস্থা নিক। না হলে বিজেপি পাল্টা সন্ত্রাস করবে।” হুঁশিয়ারির সুরে রাজ্য বিজেপি-র অন্যতম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “বিজেপি-যদি পাল্টা সন্ত্রাস শুরু করে তাহলে তৃণমূল কংগ্রেসের অস্তিত্ব থাকবে না।” এরপরই বসিরহাটের বিজেপি প্রার্থী বলেন, “আমি তো ওই জন্যই আগে বলেছিলাম বুথ দখল করতে এলে বুকে গুলি করতে হবে। তখন আপনারা আমার বিরুদ্ধে বিপ্লব করেছিলেন। কিন্তু আমি আবার কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বলব, বুথ রিগিং করতে এলে গুলিটা যেন ঠিক জায়গায় লাগে।”
বসিরহাটে এ বার প্রার্থী বদলেছে তৃণমূল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাঁড় করিয়েছেন অভিনেত্রী নুসরত জাহানকে। বিজেপি-র অভিযোগ, মিনাখা, সন্দেশখালি, হাসনাবাদ-সহ একাধিক জায়গায় সন্ত্রাস করছে তৃণমূলের সশস্ত্র বাহিনী। সেই সন্ত্রাস রুখতেই সায়ন্তন এই কথা বলেন। তাঁর কথায়, “আজকালের মধ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী ঢুকে যাবে। নামের লিস্ট তৈরি হচ্ছে।”
গুলি চালানোর কথা ছাড়াও মার্চের শেষে আরও অনেক বিস্ফোরক কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন, “এমন বাড়াবাড়ি দেখানো হবে দৌড়নো তো দূরের কথা, যাবে দৌড়ে, ফিরবে খাটিয়াতে করে। সেই ব্যবস্থা আমরা করে দেব। বসিরহাটে ভাল ভাল ডাব পাওয়া যায়। আর ডাব কাটার দা’গুলোও খুব ভাল হয়। রাস্তা দিয়ে মহিলারা দা নিয়ে বেরবে। দু’চারটেকে দেখতে পেলে একদম সাবাড় করে দিয়ে আসবে।”
সমালোচনার ঝড় বয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। অনেকেই বলেছিলেন, অনুব্রত মণ্ডলের প্রতিযোগী জোগাড় করে ফেলেছে বিজেপি। কিন্তু সায়ন্তন বুঝিয়ে দিলেন, তিনি থামবেন না। বিজেপি প্রার্থীর এ দিনের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূলের এক নেতা বলেন, “উনি কি কেন্দ্রীয়বাহিনীর কম্যান্ডর নাকি? নাকি সত্যি সত্যিই কেন্দ্রীয় বাহিনীতে আরএসএস-এর লোক ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে? না হলে একজন প্রার্থী এমন কথা বলেন কী করে! কমিশনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”