দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার সকাল থেকেই বুথ থেকে বুথে ঘুরছেন তিনি। যেখান থেকে খবর পাচ্ছেন গণ্ডগোলের, ছুটে যাচ্ছেন। কোথাও দলীয় এজেন্টকে বসিয়ে দিয়ে আসা, তো কোথাও ছাপ্পা ভোটের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, সবেতেই সামনে থেকে লড়াই করেছেন তিনি। কিন্তু তারপরেও বেলা গড়াতেই হতাশা আর রাগ ঝড়ে পড়ল হুগলির বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের গলায়। ধনেখালির ১৫৯ নম্বর বুথে গিয়ে প্রার্থী দেখলেন, পাশের ঘরে ভোটকর্মীদের জন্য মাংস-ভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। আর তা দেখে প্রার্থীর হুঙ্কার, 'আমি মুখ রক্ত তুলে ঘুরছি, আর আপনারা মাংস-ভাত খাচ্ছেন।'
সোমবার বেলা গড়াতেই স্পষ্ট হয়ে যায় ছবিটা। হুগলির বুথ থেকে বুথে ঘুরলেও ধনেখালিতে বিশেষ সুবিধা করে উঠতে পারছে না বিজেপি। এমনিতেই ধনেখালি তৃণমূলের গড়। সেখানকার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী অসীমা পাত্রর দাপটের কথা সর্বজনবিদিত। আর তাই ভোটের আগে এটা বুঝতে পেরেই লকেট বলেছিলেন, 'ধনেখালিতে যদি ছাপ্পা ভোট হয় তাহলে বিধায়ককে তুলে নিয়ে আসব।' এই কথা শুনে লকেটকে স্বাগত জানিয়েছিলেন অসীমা। ভোটের দিন বোঝা গেল, ধারে-ভারে লকেটকে টেক্কা দিচ্ছেন এই পোড়খাওয়া নেত্রী। আর তাই বেলা গড়াতেই বিজেপি কর্মীদের অভিযোগের লিস্ট বাড়তে থাকে।
এই সময়েই লকেট খবর পান, ধনেখালির ১৫৯ নম্বর বুথে ছাপ্পা ভোট হচ্ছে। তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছন বিজেপি নেত্রী। গিয়ে দেখেন, বুথ মোটামুটি ফাঁকা। পাশের ঘরে ভোটকর্মী ও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জন্য মাংসভাতের ব্যবস্থা হয়েছে। তখন বুথের মধ্যে ঢুকে প্রিসাইডিং অফিসারকে লকেট প্রশ্ন করেন, "আপনারা পাশের ঘরে মাংস-ভাত খাচ্ছেন, আর এ দিকে ছাপ্পা ভোট হচ্ছে।" এই কথার জবাবে সেই প্রিসাইডিং অফিসার বলেন, ফাঁকা ছিল বলেই তাঁরা খেতে গিয়েছিলেন। তার উত্তরে আরও রেগে গিয়ে বিজেপি প্রার্থী বলেন, "আমি মুখ রক্ত তুলে ঘুরছি, আর আপনারা মাংস-ভাত খাচ্ছেন।" লকেট বুথ থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরেই দেখা যায়, একজন ইভিএম মেশিন তুলে আছাড় মারছেন। এই আছাড়ে ওই বুথের ইভিএম মেশিন ভেঙে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
https://www.youtube.com/watch?v=C_0RxteLmsw&feature=youtu.be
পরবর্তীকালে হুগলি জেলার জেলাশাসকের দফতরের বাইরে গিয়ে ধর্ণা দেন লকেট। তাঁর অভিযোগ মূলত ধনেখালিকে নিয়ে। লকেট বলেন, "বাকি সব জায়গায় একটু আধটু সমস্যা হলেও ধনেখালির ৩১১টা বুথের প্রায় ৮০ শতাংশ বুথে ছাপ্পা ভোট হয়েছে। কতগুলো জায়গায় যাব? আমিও তো মানুষ। আমার গাড়ি ভাঙচুর হয়েছে। আমাদের ছেলেদের মারধর করা হয়েছে। এজেন্ট বসতে দেওয়া হয়নি। ভোটকর্মীদের মাংস-ভাতের লোভ দেখিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়েছে। তাই ধনেখালিতে আমি ১০০ শতাংশ বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। দাবি না মানা পর্যন্ত ধর্ণা চলবে।" পরে অবশ্য লকেট জানিয়েছেন, জেলাশাসক তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন ব্যাপারটা খতিয়ে দেখবেন।
অন্যদিকে লকেটের এই অভিযোগকে উড়িয়ে দিয়ে উল্টে প্রার্থীর বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল বিধায়ক অসীমা পাত্র। তিনি অভিযোগ করেছেন, লকেট ও তাঁর ছেলেরা ধনেখালির বিভিন্ন বুথে এসে গণ্ডগোল করেছেন। এমনকী লকেটের বিরুদ্ধে ভোটিং মেশিন ভেঙে ফেলারও অভিযোগ করেছেন অসীমা। সাধারণ মানুষের হাতে প্রতিহত হয়েই এখন তৃণমূলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছেন লকেট, এমনটাই দাবি শাসকদলের বিধায়কের।
আরও পড়ুন
https://www.four.suk.1wp.in/news-state-tmc-candidate-prasun-banerjee-alleges-that-central-force-beats-him-in-booth-premises/