দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভুতুড়ে ট্রেন ফিল্মে দেখা যায়, টাইম টেবিলে নেই এমন ট্রেন রাতের বেলায় ছুটে যায় নির্দিষ্ট একটি স্টেশন দিয়ে। বাস্তবেও এমন হয় বৈকি। একেবারে দিনের বেলায় ট্রেন ছুটে গেল একের পর স্টেশন দিয়ে কিন্তু যাত্রীরা দেখতেই পেলেন না। সাঁইথিয়া, গুসকরা, নওয়াদার ঢাল – সব স্টেশনের যাত্রীদের একই অবস্থা। সৌজন্যে একটি অ্যাপ, যার নাম ‘হোয়্যার ইজ মাই ট্রেন’।
ট্রেনের সময় নিয়ে যাত্রীদের কোনও টেনশন থাকার কথা নয় কারণ অ্যাপের মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান দেখে নিলেই হল। দরকারে খাবারও বুক করে ফেলতে পারেন, নির্দিষ্ট স্টেশনে ট্রেন ঢুকলে চলে আসবে গরমাগরম খাবার। যাত্রীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অবশ্য ভিন্ন, বিশেষ করে বর্ধমান লাইনে। ৬৩০১২ ডাউন রামপুরহাট-বর্ধমান মেমু লোকাল সকাল থেকে ছুটল একটি অ্যাপে কিন্তু এই ট্রেনের হদিস পাওয়া গেল না কোনও স্টেশনে।
এদিন সকাল আটটার নাগাদ ‘হোয়্যার ইজ মাই ট্রেন’ অ্যাপে দেখানো হয়, ৬৩০১২ ডাউন রামপুরহাট-বর্ধমান মেমু লোকাল সাঁইথিয়া স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে। সেখানের যাত্রীরা ট্রেনটি দেখতে পেলেন না। তখনই দেখানো হল ট্রেনটি গুসকরা স্টেশনে ঢুকবে সকাল ৯টা বেজে ৬ মিনিটে অর্থাৎ ট্রেনটি ১৩ মিনিট দেরিতে চলছে। তারপর হঠাৎ ওই অ্যাপ থেমে গেল। এর প্রায় ৪০ মিনিট পরে হঠাৎ অ্যাপ সক্রিয় হয়ে গেল। সাঁইথিয়া স্টেশনের যাত্রীরা দেখলেন ততক্ষণে ট্রেন গুসকরা পেরিয়ে নওয়াদার ঢাল স্টেশনে পৌঁছে গেছে।
নিত্যযাত্রী চিরঞ্জিত বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রশান্ত চট্টোপাধ্যায়, বিশ্বজিৎ মণ্ডলরা তো অবাক। তাঁরা ছুটলেন স্টেশন ম্যানেজারের কাছে। স্টেশন ম্যানেজারও যাত্রীদের কথা শুনে অবাক হয়ে গেলেন। তিনি খবর নিয়ে জানতে পারেন ৬৩০১২ ডাউন মেমু লোকাল রামপুরহাট থেকে এবার ছাড়েনি, শীঘ্রই ছাড়বে! তখন সকাল আটটা মতো বাজে।

বাস্তবে ট্রেনটি রামপুরহাট থেকে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা পরে ছাড়ল অথচ ‘হোয়্যার ইজ মাই ট্রেন’ অ্যাপে প্রথমে দেখাল ট্রেন প্রায় ঠিক সময়েই চলছে, পরে আবার দেখা গেল ট্রেনটি দেড় ঘণ্টা দেরিতে চলছে।

বিষয়টি জেনে পূর্বরেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক নিখিল চক্রবর্তী রেলের নিজস্ব অ্যাপ CRIS (ক্রিস) ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। ‘হোয়্যার ইজ মাই ট্রেন’ অ্যাপ সম্বন্ধে তিনি কোনও কথা বলেননি।
এদিন সকাল থেকে রামপুরহাট বর্ধমান লুপ লাইনের যাত্রীরা যে চরম ভোগান্তিতে পড়লেন তার জন্য কে দায়ী? কেন রেলের পক্ষে স্টেশনগুলিতে কিছু ঘোষণা করা হল না? এব্যাপারে রেল কর্তৃপক্ষ অবশ্য নীরব।
এমনিতেই লাগাতার বিভ্রান্তি আর ভোগান্তি চলছে বর্ধমান রামপুরহাট লুপ লাইনে। প্রায় দিনই এই লাইনে বিভিন্ন লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হচ্ছে। ফলে নিয়মিত ভাবে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। গত দু'মাস ধরে বর্ধমান রামপুরহাট লুপ লাইনে ট্রেন চলাচলে বিঘ্ন ঘটলেই রেলের পক্ষ থেকে প্রায় রেকর্ড করে রাখা কথার মতো শোনানো হচ্ছে – সাঁইথিয়া স্টেশনের কাছে সেতুর কাজ চলছে। আবার কখনও বলা হচ্ছে রামপুরহাটের কাছে লাইনে কাজ হচ্ছে। এই ভাবে প্রায় প্রতিদিনই এক বা একাধিক লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন বাতিল হচ্ছে। মাঝেমধ্যে রেলের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হচ্ছে ট্রেন দেরিতে চলা ও বাতিল করার কথা কিন্তু অধিকাংশ সময়েই কোনও রকম ঘোষণা করা হচ্ছে না। তাতে যাত্রীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন, সমস্যায় পড়ছেন। তাতে যাত্রীরা ভীষণ বিরক্ত ও ক্ষুব্ধ।
তবে তাঁদের সব বিরক্তি ছাড়িয়ে গেছে এদিনের ঘটনা।