দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের ড্রেস না হওয়ায় বীরভূম জেলার বোলপুরের একটি বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের ২৫ ছাত্রীর লেগিংস খুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। সেই ঘটনায় বীরভূমের জেলাশাসকের নির্দেশে তিন সদস্যের প্রতিনিধি দল স্কুল পরিদর্শন করলেন। তাঁরা স্কুলের শিক্ষিকা ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে দেখা করেন। সেইসঙ্গে বিক্ষুব্ধ অভিভাবকদের কথাও শোনেন তাঁরা। সব শুনে জেলাশাসককে রিপোর্ট জমা দেবে এই প্রতিনিধি দল।
অন্যদিকে বুধবার সকালে এক অভিভাবক অভিযোগ করেছেন এই ঘটনার ফলে অসুস্থ হয়ে পড়েছে তাঁর মেয়ে। ফলে আজ ইংরেজি পরীক্ষা দিতে আসতে পারেনি সে। অন্যদিন তাকে পরীক্ষায় বসার আবেদন জানিয়েছেন তিনি। জমা দিয়েছেন ডাক্তারের রিপোর্টও। এদিকে আজও বিক্ষোভ দেখিয়েছেন অভিভাবকরা। তাঁদের দাবি প্রিন্সিপালকে অবিলম্বে বদলি করতে হবে। রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রীর দফতরেও এই বিষয়ে আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা।
মঙ্গলবার সকালে বোলপুরের মকরমপুরের একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে হয় এই ঘটনা। অভিভাবকদের বক্তব্য, ঠান্ডার হাত থেকে বাঁচতে মেয়েদের লেগিংস পরিয়ে পাঠিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু তা স্কুলের ড্রেস না হওয়ায় প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত ২৫ ছাত্রীর লেগিংস খুলে নেওয়া হয়। প্রথম শ্রেণির কিছু ছাত্রীর লেগিংসের নীচে অন্তর্বাস পর্যন্ত ছিল না বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা।
স্কুল ছুটির পরেও নাকি ছাত্রীদের লেগিংস ফেরত দেওয়া হয়নি। ওই অবস্থায় বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের। তারপরে মঙ্গলবার বিকেলে স্কুলের সামনে এসে বিক্ষোভ দেখান অভিভাবকরা। এতটা অমানবিক কী ভাবে স্কুল কর্তৃপক্ষ হতে পারে সেই প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। তাঁদের দাবি এই কাজের জন্য স্কুলকে ক্ষমা চাইতে হবে। সেইসঙ্গে প্রিন্সিপালের বদলির দাবি তুলেছেন তাঁরা। অন্যদিকে প্রিন্সিপাল সিস্টার অর্চনার দাবি, ‘‘স্কুলে একটা নির্দিষ্ট পোশাক বিধি রয়েছে। সে সম্পর্কে আগেই অভিভাবকদের জানানো হয়েছিল। তারপরেও তারা অন্য পোশাক পরিয়ে মেয়েদের পাঠিয়েছেন।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘কোথাও ভুল হচ্ছে। এমন কোনও ঘটনা ঘটেনি।’’ তার উত্তরে অভিভাবকরা পাল্টা বলেন, ‘‘পোশাক যদি না খোলানো হবে, তা হলে সেগুলো আমাদের ফেরত দেওয়া হল কী করে? এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে প্রিন্সিপাল মিথ্যে বলছেন।’’
এই খবর শুনে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় ইতিমধ্যেই শিক্ষা দফতরের কাছে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট চেয়ে পাঠিয়েছেন। এবার প্রতিনিধি দল পাঠালেন জেলাশাসক।