দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাথরচাপুরির মতো ঐতিহ্যবাহী মেলা বন্ধ হয়েছে আগেই আর এবার বন্ধ হল তারাপীঠ মন্দিরও। করোনাভাইরাসের সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসাবে জমায়েত এড়াতে আজ শুক্রবার থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে রীতি মেনে মন্দিরে নিত্যপুজো চলবে যদিও সেখানে কোনও পুণ্যার্থী ও পর্যটককে ঢুকতে দেওয়া হবে না।
তারাপীঠ মন্দির সেবায়েত কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, “প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আগামী ২০ মার্চ থেকে ৩১ শে মার্চ পর্যন্ত শুধুমাত্র পর্যটকদের জন্য এই মন্দির প্রবেশের গেট বন্ধ থাকবে তবে মন্দিরের পুজো-অর্চনা সবই হবে নিয়মিত।” যাঁরা তারাপীঠ মন্দিরের আরতি দেখার জন্য উৎসুক তাঁদের জন্য কি সোশ্যাল মিডিয়ায় লাইভ করে আরতি দেখান হবে? এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন যে সেব্যাপারে এখনও কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
মন্দিরের এই সিদ্ধান্তে কোনও বিরূপ মন্তব্য করছেন না স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পর্যটকদের জন্য মন্দির বন্ধ করে দেওয়ায় তাঁদের আর্থিক ক্ষতি হবে ঠিকই তবে এই রকম তীর্থক্ষত্রে একবার কোনও ভাবে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়লে তা মারাত্মক হতে পারে – একথা ভেবে তাঁরা বলছেন আখেরে লাভই হচ্ছে।
প্রশাসনিক বৈঠকে তারাপীঠের মন্দির বন্ধ রাখার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়।
করোনাভাইরাস এখন মহামারির আকার ধারণ করেছে। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা দুশো ছাড়িয়ে গেছে। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত দু’জনের শরীরে এই ভাইরাসের সন্ধান মিলেছে। সারা বিশ্বেই বিভিন্ন দেশে জমায়েত নিষিদ্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ইস্টার সপ্তাহ উদযাপন বাতিল করা হয়েছে ভ্যাটিকান সিটিতে। মক্কা ও মদিনা থেকে জেরুজালেম – সবই জনশূন্য। এরাজ্যে যেসব মন্দিরে পুণ্যার্থীদের বেশি ভিড় হয় তেমন বহু মন্দিরেই মন্দিরে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।
বেশ কয়েকটি মেলা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। নবদ্বীপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে দশম দোল পরিক্রমার মতো ঐতিহ্যবাহী রীতি। অগ্রদ্বীপে মেলা বাতিল করা হয়েছে।
বিভিন্ন পর্যটনস্থলেও রাশ টানা হয়েছে। দার্জিলিংয়ে কোনও পর্যটককে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। হোটেল খালি করতে বলে দেওয়া হয়েছে। বিষ্ণুপুরে সরকারি লজে বিদেশিদের বুকিং বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বাতিল হয়েছে বহু ট্রেন। একাধিক সংস্থা বন্ধ করেছে তাদের উড়ান। করোনা রুখতে যথাসম্ভব বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিচ্ছে প্রশাসন। রবিবার ‘জনতা কার্ফু’ পালন করার জন্য আহ্বান করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।