দ্য ওয়াল ব্যুরো: সংকটজনক মতুয়া সংঘের বড়মা বীণাপাণি দেবী। সোমবার রাত থেকেই ১০০ শতাংশ ভেন্টিলেশনে রয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন অনেক অঙ্গই কাজ করছে না তাঁর। ফুসফুসে সংক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় বেড়েছে রক্তচাপও। এসএসকেএম সূত্রে খবর, সম্ভবত মাল্টি অরগ্যান ফেলিওরের দিকেই যাচ্ছেন বড়মা।
এসএসকেএম-এর সুপার রঘুনাথ মিশ্র জানিয়েছেন, এর আগে বাইপ্যাপ সাপোর্টে ছিলেন বড়মা বীণাপাণি দেবী। কিন্তু বাইপ্যাপ কাজ না করায় মঙ্গলবার সকালে তাঁকে ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। এ দিন সকাল থেকেই তিন দফায় মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্যরা পরীক্ষা করেন বীণাপাণি দেবীকে। পাঁচ সদস্যের ওই মেডিক্যাল বোর্ড তিন দফায় নিজেদের মধ্যেও আলোচনা করেছে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, ভেন্টিলেশন সাপোর্ট ছাড়া বড়মাকে রাখা সম্ভব নয়। দু'টি ফুসফুসেই মারাত্মক ভাবে সক্রমণ ছড়িয়ে গিয়েছে তাঁর। ক্রনিক সিওপিডি-র সমস্যায় দীর্ঘদিন ধরেই তিনি ভুগছেন। এ ছাড়াও বার্ধক্যজনিত একাধিক সমস্যা রয়েছে বীণাপাণিদেবীর।
গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার প্রথমে বীণাপাণি দেবীকে ভর্তি করা হয় কল্যাণীর জেএনএম হাসপাতালে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে নিয়ে আসা হয় এসএসকেএম হাসপাতালে। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছেন বড়মা। বুকে কফ জমেছে তাঁর। এ ছাড়াও নিউমোনিয়া ও ফুসফুসে সংক্রমণ হয়েছে বীণাপাণি দেবীর। গত বৃহস্পতিবার হাসপাতালে বড়মাকে ভর্তি করার পরে, শুক্রবার সকালে বসানো হয় মেডিক্যাল বোর্ড। ১২ জন ডাক্তারের একটি মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়।
মাস চারেক আগে বড়মা বীণাপাণি দেবীর শতবর্ষ পালনে ঠাকুরনগরে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করে এসেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর দিনকয়েক আগে ঠাকুরনগরের মতুয়া মহাসঙ্ঘের আমন্ত্রণেই এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। পায়ের কাছে গিয়ে হাঁটু মুড়ে বসে বড়মার আশীর্বাদও নিয়েছিলেন মোদী।