দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ জল্পনার অবসান। অবশেষে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী উপাচার্য হলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞানের অধ্যাপক ছিলেন বিদ্যুৎ চক্রবর্তী।
সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ নতুন উপাচার্যের নিয়োগ পত্রে স্বাক্ষর করেছেন। কেন্দ্রীয় মানব সম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের দফতরে পাঠানোও হয়ে গিয়ে সেই ফাইল। জানা গিয়েছে, আজ রাত আটটা নাগাদ এই বিষয়ে একটি মেলও এসেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে।
প্রসঙ্গত, দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্যহীন ছিল বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। দুর্নীতির দায়ে উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তকে অপসারণ করেছিলেন তৎকালীন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি। তারপর কেটে গিয়েছে প্রায় দু'বছর। নতুন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী হয়েছেন প্রকাশ জাভড়েকর। কিন্তু কোনও স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগ হয়নি বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ নিয়ে বারংবার প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য তথা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। স্থায়ী উপাচার্যের বদলে বারবার দায়িত্বভার নিতে হয়েছে অস্থায়ী উপাচার্যদের।
এ দিকে চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে অস্থায়ী উপাচার্য স্বপনকুমার দত্ত অবসর নেন। সে সময় বিজেপি নেতাদের একাংশের দাবি ছিল অবসরের পর স্বপনবাবুকেই স্থায়ী উপাচার্য ঘোষণা করা হোক। তবে এই স্বপনকুমার দত্তের বিরুদ্ধেও প্রধানমন্ত্রীর দফতরে জমা পড়েছিল বেশ কিছু অভিযোগ। আর্থিক তছরুপের পাশাপাশি তালিকায় ছিল বেআইনি ভাবে নিয়োগ এবং যৌন কেলেঙ্কারির অভিযোগও।
এই ঘটনার পর ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্যের পদে আসীন হন বিশ্বভারতীর প্রবীণতম ডিরেক্টর এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী সবুজকলি সেন। ১৯৮৫ সালে দর্শন বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে বিশ্বভারতীতে যোগ দেন সবুজকলি সেন। পরে বিভাগীয় প্রধানও হয়েছিলেন তিনি।
এরপর চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সুবজ সংকেত দেয় কেন্দ্রীয় সরকার। শুরু হয় স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের প্রক্রিয়া। গঠন করা হয় একটি সার্চ কমিটি। কমিটি গঠনের প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় এ বার স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে চলেছে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়। অবশেষে দু'বছর পর স্থায়ী উপাচার্য পাবেন পড়ুয়ারা।