দ্য ওয়াল ব্যুরো: এতদিন বিরোধীরা বলছিলেন। এবার খোদ রাজ্যের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্ত্রিসভার সদস্য অভিযোগ করলেন, ইয়াস বিধ্বস্ত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে গেছিলেন তিনি। কিন্তু সব ত্রাণ লুঠ করে নিয়ে তাঁকে ধাক্কা দিয়ে ফিরিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা। এখানেই শেষ নয়। এরপর মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা যে ভাষায় রাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তাতে বিজেপি সহ বিরোধী শিবিরের বক্তব্যে সিলমোহর পড়ল বলে মনে করছে শাসক দলের একাংশ। ভোট পরবর্তী হিংসার ঘটনা নিয়ে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের হাইকোর্টে জমা করা রিপোর্ট নিয়ে শাসক দলকে চেপে ফেলতে মুখিয়ে আছে বিরোধীরা। তারমধ্যে স্বয়ং রাজ্যের মন্ত্রী এদিন বলেন, মন্ত্রীরই যদি নিরাপত্তা না থাকে তো সাধারণ মানুষের কী অবস্থা বলাই বাহুল্য।
এদিন উত্তর চব্বিশ পরগনার সন্দেশখালিতে ত্রাণ দিতে গিয়েছিলেন জমিয়েত উলেমা হিন্দের নেতা। কিন্তু তাঁর ত্রাণ সামগ্রী লুঠ করে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন গ্রন্থাগার মন্ত্রী।
কারা লুঠ করল?
সিদ্দিকুল্লার নিশানায় বসিরহাটের দুই দাপুটে তৃণমূল নেতা শাহজাহান এবং শফিকুল এই কাজ করেছে। সিদ্দ্দিকুল্লার বক্তব্য, এই শাহজাহান এবং শফিকুল হল ত্রাস। যাদের ভয়ে পুলিশ গাড়ি থেকে নামেনি। তিনি এও বলেন, এরা আসলে সমাজের কুলাঙ্গার।
শাহজাহান কে?
সিদ্দিকুল্লা শিবিরের অভিযোগ, সিপিএম জমানাতে তার মাথাচাড়া দেওয়া শুরু। মূলত ভেরি মাফিয়া হিসেবেই তার নামডাক। পরে পালাবদলের সঙ্গে এই শাহাজানই তৃণমূল হয়ে যায়। শফিকুল তার শাগরেদ।
সিদ্দিকুল্লা স্পষ্টতই বলেছেন, দল যদি ব্যবস্থা না নেয় তাঁর মুখ বন্ধ হবে না। মন্ত্রীর উদ্বেগ, আমি যদি মন্ত্রী হয়ে এই অবস্থায় পড়ি তাহলে সধারণ মানুষের কী অবস্থা বোঝাই যাচ্ছে।
রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা এও বলেছেন, যখন তাঁর উপর হামলা হচ্ছে তখন তিনি নবান্নে ডিজি কন্ট্রোলে ফোন করেছিলেন। তারপরেও পুলিশ গাড়ি থেকে নামেনি। তাঁর কথায়, যেখানে মন্ত্রীর গায়ে হাত পড়লে তৃণমূল নেতাদের ভয়ে পুলিশ গুটিয়ে থাকে সেখানে আইনশৃঙ্খলা নেই। নৈরাজ্য চলছে।