দ্য ওয়াল ব্যুরো: মহরমের দিন যাতে শিশুদের হাতে অস্ত্র না থাকে, সে ব্যাপারে লক্ষ্য রাখার জন্য জেলাশাসকদের মৌখিক বার্তা দিল রাজ্য শিশু সুরক্ষা কমিশন।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর পালিত হবে মহরম। রীতি অনুযায়ী ইসলাম ধর্মালম্বী মানুষের কাছে এ দিনটি শোকের। বিভিন্ন জায়গায় তাজিয়া বের হয় মহরমে। ফলে আইন-শৃঙ্খলার যাতে কোনও বিঘ্ন না ঘটে সে বিষয়ে প্রশাসনের অতিরিক্ত নজরদারি থাকেই। এ বার তার সঙ্গে যুক্ত হলো শিশু সুরক্ষা কমিশনের মৌখিক বার্তা।
এমনিতে গত কয়েক বছর মহরম এবং বিজয়া দশমী গায়ে গায়ে থাকায় সরকারকে আইন-শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে বিসর্জনের উপর বিধিনিষেধ জারি করতে হয়েছিল। এ নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। কিন্তু এ বার পুজো শুরুর অনেকটা আগেই মিটে যাচ্ছে মহরম। ফলে সেই বিতর্কের আর কোনও অবকাশ নেই। কিন্তু শিশু সুরক্ষা কমিশনের এই বার্তায় রাজনীতির গন্ধ পাচ্ছেন অনেকে।
অনেকের মতে, এই নির্দেশিকাকে ঢাল হিসেবে তৈরি রাখল বাংলার শাসক দল। কেন? সব কিছু ঠিকঠাক থাকলে সামনের বছর এপ্রিল-মে মাসেই লোকসভা ভোট। আর ওই সময়েই রামনবমী উৎসব। ইদানীং কয়েক বছর ধরে রাজ্যে কার্যত রামনবমী উৎসব হয় হইহই করে। মূলত বিজেপি-র উদ্যোগেই রামনবমীতে এ রাজ্যে মানুষের ঢল নামে। তাঁদের মতে, যত দিন এগোবে, বিজেপি তত মেরুকরণের রাজনীতিকে তীব্র থেকে তীব্রতর করবে বাংলায়। বাংলার মাটি দখল করতে ইতিমধ্যেই অমিত শাহরা আসনের টার্গেট বেঁধে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি নেতাদের। তাতে নিঃসন্দেহে এটা বলাই যায়, ভোটের আগের রামনবমীতে আরও বেশি লোক নামানো বাংলার গেরুয়া নেতাদের কাছে হরধনু ভাঙার মতো ব্যাপার।
গত বছরও রামনবমীর বহু মিছিলে শিশুদের হাতে অস্ত্র দেখা গেছিল। নদিয়ার কৃষ্ণনগর, বীরভূমের মহম্মদ বাজার, হুগলির চাঁপাডাঙা সহ একাধিক জায়গায় এই ছবি সামনে এসেছিল। উষ্মা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেও। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটের আগে সশস্ত্র মিছিল ঠেকাতে কড়া হবে প্রশাসন। আর বিজেপি যদি হিন্দুত্বের জিগির তোলে তখন শাসক দলও বলতে পারবে সরকার মহরমের ক্ষেত্রেও একই পথে হেঁটেছিল। সে কারণেই শিশু সুরক্ষা কমিশনের এই উদ্যোগ বলে মনে করছেন তাঁরা।
এর মধ্যে আবার বেঙ্গল ইমামস অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকেও মহরমের মিছিলে অস্ত্র নিয়ে না বেরনোর অনুরোধ জানানো হয়েছে। খোদ চেয়ারম্যান প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছেন, মহরমের দিন অস্ত্র মিছিল শিয়া, সুন্নি সব সম্প্রদায়েরই ইসলামবিরোধী।