দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা পরিস্থিতিতেও রাজভবন-নবান্ন সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। কোভিডের তথ্য গোপন করা হচ্ছে বলে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুললেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। এদিন মুখ্যমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে টুইটে রাজ্যপাল লেখেন, "করোনার তথ্য লুকোনো বন্ধ করে সবার সামনে তা প্রকাশ করুন।"
শুধু তাই নয়। করোনা সংক্রান্ত রাজ্যের দুটি নথিও টুইট করেন রাজ্যের সাংবিধানিক প্রধান। যার একটিতে রয়েছে ৩০ এপ্রিল স্বাস্থ্য দফতরের বুলেটিনে করোনা অ্যাকটিভের সংখ্যা এবং ওই তারিখে মুখ্যসচিব কেন্দ্রকে মোট করোনা আক্রান্তের যে তথ্য দিয়েছিলেন সেই চিঠিটি।
https://twitter.com/jdhankhar1/status/1256458161768165378?s=08
৩০ এপ্রিল রাজ্যে করোনা অ্যাকটিভের সংখ্যা ছিল ৫৭২। মুখ্যসচিব কেন্দ্রকে চিঠি দিয়ে জানান রাজ্যে মোট করোনা আক্রান্ত ৯৩১। কাকতালীয় ভাবে ঠিক তার পরের দিন অর্থাৎ গতকাল ১ মে রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর কোনও বুলেটিন প্রকাশ করেনি। এমনকি স্বাস্থ্য দফতরের ওয়েবসাইটটিও ঠিক মতো কাজ করছিল না। তথ্যের অসঙ্গতি এবং গতকাল বুলেটিন প্রকাশ না করা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করেন রাজ্যপাল।
শনিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রকের বুলেটিনেও বাংলার গত ২৪ ঘণ্টার তথ্য আপডেট করা হয়নি। স্বাস্থ্যমন্ত্রক সূত্রে বলা হচ্ছে, রাজ্যের কাছ থেকে তথ্য পাওয়া যায়নি বলেই আপডেট করা যায়নি।
প্রসঙ্গত, কতজন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন সেই সংখ্যা রাজ্য বলে না। স্বাস্থ্য দফতর যে বুলেটিন দেয় তাতে কেবল বলা থাকে ওইদিন পর্যন্ত কতজনের শরীরে করোনাভাইরাস সক্রিয় রয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের বুলেটিনে মোট করোনা আক্রান্ত কতজন তার উল্লেখ থাকে।
রাজ্যে করোনা আক্রান্ত কতজন এবং কতজনের মৃত্যু হয়েছে তার প্রকৃত সংখ্যা সরকার গোপন করছে বলে মার্চের শেষে দিক থেকেই অভিযোগ তুলছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপি রাজ্য.সভাপতি দিলীপ ঘোষ থেকে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী-- সকলেরই বক্তব্য, সরকার প্রতিদিন যে ভাবে তথ্য বদলাচ্ছে তাতে সরকারই প্রমাণ করে দিচ্ছে তথ্য গোপন হচ্ছে।
সংবাদ সংস্থা এএনআইকে রাজ্যপাল বলেন, "আমি মুখ্যমন্ত্রীকে অনুরোধ করছি, বিশ্বজোড়া এই মহামারীর সময়ে রাজনীতিকে দূরে সরিয়ে রাখুন।" তাঁর কথায়, "দেশের কোনও রাজ্যে কেন্দ্রের আন্তঃমন্ত্রক দলকে বাধার মুখে পড়তে হয়নি। শুধু বাংলার সরকারই কেন্দ্রীয় দলকে বাধা দিয়েছে।"
যদিও রাজ্যপালের মন্তব্য নিয়ে তৃণমূল ইদানিং সরকারি ভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয় না। কারণ, শাসকদলের অনেকে মনে করেন, ওঁর কথার প্রতিক্রিয়া জানানো মানেই বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া হয়। তাই জবাব না দেওয়ার কৌশল নিয়েছে তৃণমূল।