
শেষ আপডেট: 22 January 2019 12:23
উনিশে লোকসভা ভোটের আগে ওই ২ কোটি মানুষের ‘অন্তরাত্মা’-কেই জাগাতে চাইছেন অমিত শাহ-মুকুল রায়রা।
মঙ্গলবার মালদহের মঞ্চে দাঁড়িয়ে বিজেপি-র সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ জানিয়ে দিলেন, পঞ্চায়েত ভোটে যা হয়েছে, তা হয়েছে। বাংলার সব মানুষ তা দেখেছে। এ বার সেই গুড়ে বালি। তাঁর কথায়, “পঞ্চায়েতে আপনাদের অনেকেই ভোট দিতে পারেননি। কিন্তু এ বার ভয় নেই। বাংলার সরকার ভোট করাবে না। লোকসভায় ভোট হবে প্যারা মিলিটারি ফোর্স দিয়ে। বুথে বুথে আধা সামরিক বাহিনীর জওয়ান ও নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধি থাকবেন। এ বারের ভোট অবাধ হবেই।”
অমিত শাহ এ কথা বলার আগে এ দিন মালদহের মঞ্চে একই প্রসঙ্গ তুলেছিলেন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তিনি বলেন, “যাঁরা পঞ্চায়েতে ভোট দিতে পারেননি, ভোট দিতে গিয়ে দেখেছেন আপনার ভোট পড়ে গিয়েছে, কিংবা মার খেয়েছেন, তাঁরা লোকসভা ভোটে জবাব দিন। এক্কেবারে মোক্ষম জবাব।”
একদা তৃণমূলের সেকেন্ড ম্যানের কথায়, সিপিএমের জমানাও দেখেছি। তবে জিতে যাওয়া পঞ্চায়েতের সদস্যদের ওরা তুলে নিয়ে যেত না। আর এখন, মগের মুলুক চলছে। তৃণমূলের শিকারিদের থেকে বাঁচাতে জয়ী প্রার্থীদের অন্য রাজ্যে নিয়ে ক্যাম্পে রাখতে হচ্ছে।
পঞ্চায়েতে বাংলা জুড়ে জেলায় জেলায় যে ভাবে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আসন জিতছিল তৃণমূল, তখনই অশনিসংকেত দেখেছিলেন শাসক দলের কিছু নেতা। তাঁরা মনে করছিলেন, বিরোধীদের জোর করে মনোনয়ন পেশ করতে না দেওয়া মানে সেখানে ভোটাভুটি না হওয়া। যে সব মানুষ ভোট দিতে পারলেন না, তাঁরা কোনও ভাবেই তৃণমূলের উপর খুশি হবেন না। লোকসভা ভোটে এঁরা যখন ভোটাধিকারের সুযোগ পাবেন, তখন অবধারিত ভাবেই পঞ্চায়েতের অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়বে।
বাংলায় ভোট রাজনীতি মুকুল রায়ের গুলে খাওয়া। অনেকে তাঁকে বলেন অনিল বিশ্বাসের নতুন সংস্করণ। মুকুলবাবুর ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, পঞ্চায়েত ভোটের তিক্ততা মানুষের মনে জাগিয়ে তুলতে চাইছেন তিনি। যাঁরা পঞ্চায়েতে ভোট দিতে পারেননি, তাঁরা যেন এ বার বদলা নেন। যে ২ কোটি মানুষ পঞ্চায়েতে ভোট দিতে পারেননি, তাঁদের একটা বড় অংশ যদি এ বার তৃণমূলের বিরুদ্ধে তথা বিজেপি-র পক্ষে ভোট দেন, তা হলেই বাংলায় খেলা ঘুরে যাবে। এরই পাশাপাশি পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনার বিবরণ সম্বলিত রিপোর্ট এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনে পেশ করেছেন মুকুলবাবুরা। কমিশনকে জানিয়েছেন, লোকসভা ভোটের সময় তাঁরা যেন সতর্ক থাকেন এবং সব রকম বিধি ব্যবস্থা করেন। সূত্রের খবর, বিজেপি চাইছে বাংলায় যত সম্ভব বেশি দফায় ভোট হোক। যাতে বুথ দখল, রিগিং, মানুষকে ভয় দেখিয়ে বুথে যেতে না দেওয়া, এসব না করতে পারে শাসক দল।
এ ব্যাপারে এ দিন অমিত শাহ-র বক্তব্যের জবাবও দিয়েছেন তৃণমূলের নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, জেলায় জেলায় বিরোধীদের সংগঠন নেই। তাই পঞ্চায়েতে প্রার্থী দিতে পারেনি। বিপক্ষে কোনও প্রার্থী না থাকলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তৃণমূলের প্রার্থী জিতবেন, সেটাই স্বাভাবিক। মানুষকে খামোখা বোকা বানাতে চাইছেন অমিত শাহরা। আর একদা মুকুল-ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল নেতার সরস মন্তব্য, "ভোটে জোর জুলুম নিয়ে সমালোচনা আর যে হোক, মুকুলদা'কে মানায় না। কেন সেটা বুঝতেই পারছেন!"