দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্কুলের মাঠে উচ্চগ্রামে মাইক বাজিয়ে নাম সংকীর্তন হওয়ায় পড়াশোনায় সমস্যা হচ্ছে বসিরহাট মহকুমার হিঙ্গলগঞ্জ ব্লকের সেরের হাটি জুনিয়র হাইস্কুলে। স্বভাবতই বিরক্ত শিক্ষকরা। যদিও গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে বৈধ অনুমতি নিয়েই তাঁরা নাম সংকীর্তন করছেন।
সেরের হাটি জুনিয়র হাইস্কুলে ১৪৫ জন ছাত্রছাত্রী রয়েছে। এই স্কুলের মাঠে বাহাত্তর ঘণ্টা ব্যাপী অখণ্ড নাম সংকীর্তন শুরু হওয়ায় তারা পড়াশোনা করতে পারছে না। শুক্রবার সারা দিন উচ্চগ্রামে মাইকের শব্দ হওয়ায় শিক্ষকদের কথা তারা শুনতেই পাচ্ছিল না। তারা কোনও প্রশ্ন করলে বা শিক্ষকদের কোনও প্রশ্নের উত্তর দিলে সে কথা ঠিকমতো শুনতে পাচ্ছিলেন না শিক্ষকরাও। তাই কার্যত সারা দিন পড়াশোনা হলই না স্কুলে। কাল শনিবার, তাই স্কুল হবে অর্ধেক তাই কালও এই স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পঠনপাঠনে সমস্যা হবে। রবিবার স্কুল ছুটি। নামগান শেষ হবে রবিবারই।
শুক্রবার সকাল থেকে নাম সংকীর্তন শুরু হওয়ায় বেশির ভাগ ছাত্রছাত্রী অবশ্য মজাই পাচ্ছে। একে তো গান হচ্ছে তার উপরে পড়াশোনাও করতে হচ্ছে না। তবে সমস্যা হচ্ছে শিক্ষকদের, কারণ তাঁরা পড়াতে পারছেন না। আরও বেশি সমস্যা হচ্ছে গ্রামের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থীদের। শিক্ষকরা চাইছেন এব্যাপারে প্রশাসন হস্তক্ষেপ করুক।
স্কুলের প্রধানশিক্ষক অজয়কুমার সাহু জানিয়েছেন, স্কুলের পরিচালন কমিটিকে তিনি লিখিত ভাবে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাঁর উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এই সমস্যার কথা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে তিনি ব্যক্তিগত ভাবে অনুরোধ করায় যাঁরা নামগান করছিলেন তাঁরা শব্দের মাত্রা কমিয়ে দিয়েছেন।
সেরের হাটি গ্রামের বাসিন্দারা এই নামগানের আয়োজক। তাঁরা জানিয়েছেন যে স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক জায়গায় বসে আলোচনা করেই নাম সংকীর্তনের আয়োজন করা হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ এব্যাপারে তাঁদের অনুমতি দিয়েছেন। প্রধানশিক্ষক জানিয়েছেন যে অনুমতি দেওয়া বা না দেওয়ার এক্তিয়ার তাঁর নেই।