দ্য ওয়াল ব্যুরো: অনুমতি ছাড়াই ইউএসজি চালিয়ে যাওয়া ও বিশেষজ্ঞ ছাড়াই তাঁর সই জাল করে রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগে বাঁকুড়ার কোতুলপুরে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টার বন্ধ করে দিল জেলা স্বাস্থ্য দফতর। রুটিন পরিদর্শনে এসে ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বেশ কয়েকটি অনিয়ম দেখতে পান স্বাস্থ্য দফতরের প্রতিনিধিরা। সেই প্রতিনিধিদলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরাও ছিলেন।
কোতুলপুর নেতাজি মোড়ে মেডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে শুক্রবার রুটিন ভিজিট করতে আসেন জেলা স্বাস্থ্য দফরের আধিকারিক-সহ আট সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল। এই প্রতিনিধিদলে ছিলেন কয়েক জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
রুটিন ভিজিটে এসে তাঁরা আলট্রাসনোগ্রাফি বিভাগে যান। সেখানে একাধিক অনিয়ম চোখে পড়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের। আল্ট্রাসনোগ্রাফি করার জন্য যে যন্ত্রটি ব্যবহার করা হচ্ছে তার জন্য কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা। দীর্ঘদিন ধরে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে চলেছে। এদিন জানা গেল যে এখানে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হচ্ছিল সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে। আরও গুরুতর বিষয় চোখে পড়েছে পরিদর্শকদের। আল্ট্রাসনোগ্রাফির রিপোর্টে যে সনোলজিস্টের সই রয়েছে সেটাও জাল বলে অভিযোগ স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের।
এই সেন্টারে যিনি সনোলজিস্ট ছিলেন বেশ কিছু দিন আগে তিনি কাজ ছেড়ে দেন। তিনি ছেড়ে দেওয়ার পরেও বেআইনি ভাবে তাঁর সই ও স্ট্যাম্প জাল করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি রিপোর্ট দিয়ে চলেছিল বলে গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্বাস্থ্য বিভাগের কর্তারা। এইসব অভিযোগের জেরেই ওই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটি সিল করে দেন জেলা স্বাস্থ্য দফতরের কর্তারা।
এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কেউ মুখ খুলতে চাননি। প্রশ্ন উঠছে কী ভাবে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টার আল্ট্রাসনোগ্রাফির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা করে চলেছিল কোনও সনোলজিস্ট ছাড়াই। কোনও বিশেষজ্ঞ ছাড়া কী ভাবে তারা রিপোর্ট দিয়ে যাচ্ছিল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ওই রিপোর্টের উপরে ভিত্তি করে এতদিন যাঁরা চিকিৎসা করাচ্ছেন তাঁরা এখন চিন্তায়।