দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনা সংক্রমণ রুখতে দেশজোড়া লকডাউনের ফলে বন্ধ রয়েছে বাজার হাট থেকে মিষ্টির দোকানও। এর ফলে চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন বাঁকুড়ার বাগাতাপল গ্রামের শতাধিক দুধ ব্যবসায়ী। প্রতিদিন বাগাতাপল গ্রামে পনেরো থেকে কুড়ি কুইন্টাল দুধ উৎপন্ন হয়। সেই দুধ থেকে ছানা তৈরি করে বাঁকুড়া জেলার বিভিন্ন অংশে তো বটেই আশপাশের জেলাগুলিতে মিষ্টি তৈরির জন্যও পাঠায়। মূলত ছানার ব্যবসার উপরেই এই গ্রামের বেশিরভাগ পরিবার নির্ভরশীল।
কার্যত রবিবার থেকেই সব বাজার বন্ধ। প্রথমে রাজ্যের কয়েকটি এলাকা লকডাউনের আওতায় থাকার পরে এখন পুরো দেশে লকডাউন চলছে। তাই বাজার পুরোপুরি বন্ধ। এই অবস্থার ফলে চরম সমস্যার মুখে বাগাতাপাল গ্রামের মানুষজন। তাঁদের প্রধান জীবিকা এই দুধ ব্যবসা যা তাঁদের রুজি-রুটির একমাত্র উপায়।
আজও প্রতিদিন এই গ্রাম থেকে উৎপন্ন হচ্ছে পনেরো থেকে কুড়ি কুইন্টাল দুধ যা পুরোটাই তাঁদের ফেলে দিতে হচ্ছে স্থানীয় পুকুরে। দুধ না দুইলে গরু অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। আয় না হওয়ায় এখন সংসার চালানো দূর অস্ত্ তাঁরা গবাদি পশুর খাবার পর্যন্ত জোগাড় করতে পারছেন না। বাড়িতে টাকা নেই বললেই চলে।
এই অবস্থার মধ্যে দাঁড়িয়ে তাঁদের একটাই আবেদন, কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার তাঁদের দিকে যেন নজর দেয়। লকডাউন সবে শুরু হয়েছে। এখনই তাঁরা সঙ্কটে। বাকি দিনগুলো যাতে ঠিকমতো কাটে এবং গবাদি পশুগুলোকে যাতে খাওয়াতে পারেন সেদিকে যেন নজর দেয় সরকার।
বাঁকুড়া জেলার প্রাণীসম্পদ দফতরের উপ-অধিকর্তা এই জেলার সার্বিক অবস্থার কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান যে সরকারি সংস্থা কামুল এই জেলা থেকে দিনে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার লিটার দুধ সংগ্রহ করে তা বিক্রি করা হত মাদার ডেয়ারির কাছে কিন্তু লকডাউন শুরুর পর থেকে এখন তারা দিনে পনেরো হাজার লিটারের বেশি দুধ নিচ্ছে না। ফলে সরকারও কিছু করতে পারছে না। লিটারপ্রতি ৩২ টাকা দরে সরকার এই দুধ কিনে থাকে মোট ষোলোটি ব্লক থেকে। এখন ওই গ্রামেক কৃষকরা যদি দুধ জয়রামবাটিতে নিয়ে যেতে পারেন তাহলে তাঁদের দুধ বিক্রির কোনও উপায় হতে পারে। সেখান থেকে দুধ সংগ্রহ করে আমূল। সমস্যা হল বাগাতাপল থেকে জয়রামবাটির দূরত্ব ৮০ কিলোমিটার মতো। তাই তাঁদের পক্ষে গাড়ি জোগাড় করে একটা পথ পাড়ি দেওয়া সম্ভব নয়।
স্বভাবতই লকডাউনের মধ্যে এখন কপালে চিন্তার গভীর ভাঁজ পড়েছে বাগাতাপল গ্রামের পরিবারগুলির।