সোনামুখীতে মালিপুকুর বস্তির সত্তর ঘর বাসিন্দা দুশ্চিন্তায়, প্রতি বর্ষাতেই জল ঢোকে ঘরে
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার সোনামুখী পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপুকুর বস্তির লোকজন জানেন কি প্রত্যেককে পাকা বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? জানেন কি রাজ্যের মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প তৈরি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার?
শেষ আপডেট: 19 June 2020 10:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার সোনামুখী পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মালিপুকুর বস্তির লোকজন জানেন কি প্রত্যেককে পাকা বাড়ির স্বপ্ন দেখিয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী? জানেন কি রাজ্যের মানুষের জন্য গৃহনির্মাণ প্রকল্প তৈরি করেছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার? জানেন কিন্তু জেনেও কোনও লাভ হয়নি। কত ভোট এসেছে আর কত ভোট গেছে। কত কিছু বদলেছে গত সত্তর-পঁচাত্তর বছরে। শুরু বদলায়নি ওই পুকুরের পাড়ে বস্তি করে থাকা মানুষজনের জীবনযাত্রা আর ঘরদোর।
বদলাবেই কী করে! ভোটের আগে অনেক কথা বলেন নেতারা। ভোটের পরে বছর পাঁচেক তাঁদের আর দেখা পাওয়া যায় না – অভিজ্ঞতা থেকে সেকথাই বলছেন তাঁরা। বিগত চার পুরুষ ধরে সোনামুখীর মালিপুকুরের পাড়ে বসবাস করে আসছে ষাট থেকে সত্তরটি পরিবার। দিন আনা দিন খাওয়া এইসব পরিবারের সদস্যরা – বৃদ্ধ থেকে শিশু – সকলকে থাকতে হয় এক চিলতে ঘরে গাদাগাদি করে। অনেক বাড়িতে দেওয়াল বলতে বাঁশের বেড়ার উপরে প্লাস্টিক মোড়া। শীত-বর্ষায় সেটাই ভরসা। মাথার উপরে ছাদ বলতে পচা খড়ের ছাউনি। কয়েকটা বাড়ির দেওয়াল ইটের হলেও গাঁথনি মাটির। সেই দেওয়ালকে বর্ষায় ভরসা করা যায় না। বর্ষায় পুকুর উপচে ঘরে জল ঢুকে যায়। তখন তাঁদের ‘নরকযন্ত্রণা’ ভোগ করতে হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
[caption id="attachment_231287" align="aligncenter" width="1280"]

বেড়ার উপরে প্লাস্টিক -- এটাই দেওয়াল। ছাদ মানে পচা খড়।[/caption]
ছেলেকে ধরে চার পুরুষ ধরে এই এলাকায় বাস করছেন ফটিক বাউড়ি। তিনি বলেন, “কাউন্সিলরকে বললেই বলেন ‘হবে, হবে।’ আশা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। আমরা আজ অবধি কোনও সরকারি সুযোগসুবিধা পাইনি।” নিজেদের জমি না থাকলেও তাঁরা পুরসভাকে কর দেন এবং সেই সংক্রান্ত নথি ইতিমধ্যেই জমা করেছেন বলে দাবি। তিনি বলেন, “গার্ডওয়াল না থাকায় বাড়িতে জল ঢুকে যাচ্ছে। আমাদের সমস্যা হচ্ছে।” বৃদ্ধা মালতি বাউড়ি বলেন, “এদিকে জল এলে খুব মুশকিলে পড়ে যাই। অনেক জায়গাতেই গার্ড ওয়াল হচ্ছে কিন্তু এখানে সেসব কিছুই হচ্ছে না।”
[caption id="attachment_231289" align="aligncenter" width="1280"]

পুকুর পাড়ে বাড়ি।[/caption]
প্রতি বছরই বর্ষায় তাঁদেক নরক যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়। এবছর সবে বর্ষা শুরু হয়েছে। কিছুদিন পরে তাঁরা কী ভাবে থাকবেন সে কথা ভেবেই আতঙ্কিত হচ্ছেন।
তাঁদের অভিযোগ, বিষয়টি বহু বার স্থানীয় কাউন্সিলর তো বটেই পুরপ্রধানকে জানিয়েও কোনও কাজ হয়নি। প্রাক্তন পুরপ্রধান ও বর্তমানে সোনামুখী পুরসভার প্রশাসক সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় ওই এলাকার মানুষের দুরবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, “মূলত জমি জটেই ওই সব প্রান্তিক মানুষজনের বাড়ি তৈরি করে দেওয়া যায়নি। ওঁদের কারোরই নিজস্ব জমি নেই। পুকুর পাড়েই বসবাস। পুকুরের মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।”