দ্য ওয়াল ব্যুরোঃ গত বৃহস্পতিবার বিজেপির যুব মোর্চার নবান্ন অভিযানের সময় বন্দুক সহ গ্রেফতার হন বলবিন্দর সিং নামের এক শিখ যুবক। পরে জানা যায় ব্যারাকপুরের বিজেপি নেতা প্রিয়াঙ্কুর পাণ্ডের দেহরক্ষী ওই বলবিন্দর। বন্দুক রাখার অপরাধে বলবিন্দর, প্রিয়াঙ্কুর ও আরও একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাঁদের আরও ৮দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হল।
জানা গিয়েছে, ধৃতদের রবিবার আদালতে পেশ করা হয়। পুলিশের তরফে ১০ দিনের হেফাজতের আবেদন করা হয়। কিন্তু ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বলবিন্দর- সহ তিনজনের আটদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। অর্থাৎ আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে থাকতে হবে তাঁদের।
বলবিন্দরকে গ্রেফতার করার পরে বিজেপির তরফে দাবি করা হয় তাঁর বন্দুকের লাইসেন্স রয়েছে। বেআইনিভাবে তাঁদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে পুলিশের তরফে জানানো হয়, বলবিন্দরের বন্দুকের লাইসেন্স জম্মু-কাশ্মীরের রাজৌরি জেলার। তাই রাজৌরির বাইরে এই বন্দুক ব্যবহার করার কোনও অনুমতি নেই তাঁর। উপযুক্ত কোনও কাগজ বলবিন্দর দেখাতে পারেননি বলেই পুলিশ সূত্রে খবর। তাই তাঁদের আরও কিছুদিন হেফাজতে চায় পুলিশ। সেই আবেদন মানা হয়েছে।
অবশ্য বলবিন্দরের কাছ থেকে বন্দুক বাজেয়াপ্ত করার সময় ধস্তাধস্তিতে তাঁর পাগড়ি খুলে যাওয়ার ঘটনায় ইতিমধ্যেই তোলপাড় হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়া। প্রাক্তন ক্রিকেটার হরভজন সিং থেকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরেন্দ্র সিং—মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে বলেছেন, এই ঘটনায় ব্যবস্থা নিক বাংলার সরকার। তবে রবিবার তা ভিন্ন মাত্রা পেয়ে গিয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের গুরুদ্বারাগুলির পরিচালন ও ব্যবস্থাপনার জন্য সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান হল প্রবন্ধন কমিটি। পাগড়ি কাণ্ডে প্রতিবাদ জানাতে দিল্লির গুরুদ্বারা প্রবন্ধন কমিটির এক প্রতিনিধি দল কলকাতায় আসেন। হাওড়া থানায় গিয়ে এ ঘটনায় বিহিত চেয়ে তদন্তের দাবি করেন তাঁরা।
কয়েক মাস বাদেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে শিখ সম্প্রদায়ের এই অসন্তোষ স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে শাসক দলের মধ্যে। বিশেষ করে ভবানীপুর সহ গোটা কলকাতা এবং আসানসোল, শিলিগুড়ির মতো শহরে নির্ণায়ক শিখ ভোট রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রবিবার রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক একটি বিবৃতি দিয়ে বলেছে, একটি বিক্ষিপ্ত ঘটনাকে বিকৃত করে প্রচার করা হচ্ছে। এক ব্যক্তির কাছে বেআইনি অস্ত্র ছিল বলে পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করেছে। সেটা কেবলই বিক্ষিপ্ত ঘটনা। বাংলায় শিখ ভাই বোনেরা শান্তি ও সম্প্রীতির পরিবেশে আনন্দের সঙ্গেই রয়েছে। শিখ সম্প্রদায়ের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা রয়েছে সরকারের। কিন্তু ওই ঘটনাকে একটি রাজনৈতিক দল বিভেদের রাজনীতি করতে চাইছে।
তৃণমূলের আশঙ্কা বাংলায় গুরুদ্বারা প্রবন্ধন কমিটির প্রতিনিধি দল পাঠানোর নেপথ্যে বিজেপির ইন্ধন রয়েছে।
রবিবার সকালে দিল্লি থেকে কলকাতায় পৌঁছে যান দিল্লির শিখ প্রতিনিধি দল। তাঁরা বিমানবন্দর থেকে সোজা পৌঁছে যান হাওড়া থানায়। তারপর তাঁরা যান রাজভবনে রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে দেখা করতে। এই বিষয়ে রাজ্যপালও টুইট করেছেন। উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনি।