দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: এই সপ্তাহে লকডাউনের দ্বিতীয় দিনেও বেপরোয়া মনোভাব দেখা গেল আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের বিভিন্ন থানা এলাকায়। লকডাউন ভাঙায় বৃহস্পতিবার ১৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আশা করা হয়েছিল লোকে হয়তো শনিবার রাস্তায় বের হবে না। তবে শনিবার সকাল এগারোটার মধ্যেই অন্তত পঞ্চাশ জনকে পুলিশ আটক করেছে বলে কমিশনারেট সূত্রে খবর।
পুলিশ জানিয়েছে কুলটি, রানিগঞ্জ, সালানপুর, বারাবনি, হীরাপুর, আসানসোল উত্তর ও দক্ষিণ, দুর্গাপুর মেন, অন্ডাল প্রভৃতি থানা এলাকা থেকে সবচেয়ে বেশি নিয়ম ভাঙার অভিযোগ পেয়েছে তারা।
আসানসোল বাস স্ট্যান্ড মোড় সংলগ্ন এলাকায় শনিবার বিশাল পুলিশ বাহিনী রাস্তায় নামে। লকডাউনের সময় অনেককে রাস্তায় বিনা কারণে ঘুরতে দেখা যায়। একটা বাইকে এক সঙ্গে তিন জনকেও ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। অনেক মহিলাকেও বাইক নিয়ে ‘লকডাউন দেখতে’ রাস্তায় নামতে দেখা যায়। পুলিশ অবশ্য মহিলাদের বিশেষ আটক করেনি। তাঁদের বাড়ি ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
ট্রেনে করে যাঁরা এদিন আসানসোলে এসে নামেন তাঁরা বিপাকে পড়েন। দিল্লি, কেরল এবং শ্রীনগর থেকে অনেকে এসেছেন। কয়েক জন আবার কুয়েত থেকে দিল্লি হয়ে আসানসোলে এসেছেন। তাঁরা রাজ্যে শনিবারের লকডাউনের কথা জানতেন না। স্টেশনে নেমে তাঁরা গাড়ি পাননি। অন্য উপায় না দেখে পুলিশের কাছে সাহায্য চান। আরপিএফ অটোরিকশায় করে অনেককে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করে। অনেককে অবশ্য হেঁটেও ফিরতে হয়েছে।
বৃহস্পতিবার লকডাউনের সময় অনেক দোকান খোলা থাকায় লাঠি চার্জ করে পুলিশকে তা বন্ধ করতে হয়েছিল। শনিবার অবশ্য বেশিরভাগ দোকানপাট বন্ধ ছিল। আসানসোল স্টেশনের কাছে যে সব খাবারের দোকান খোলা ছিল পুলিশ সে সব দোকানের উনুন জল দিয়ে নিভিয়ে দেয়। তাঁদের সতর্কও করে দেওয়া হয় বুধবারের লকডাউন নিয়ে।
প্রতিটি গাড়ি থামিয়ে পুলিশ চেক করছে সকাল থেকে। এদিন মাস্ক ছাড়া অনেককে রাস্তায় ঘুরতে দেখা যায়। তাঁদের সকলকে আটক করা হয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে অভিযোগের গুরুত্ব বিচার করে স্থির করা হবে তাঁদের গ্রেফতার করা হবে কিনা।
রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলার তুলনায় এখনও পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলার অবস্থা অপেক্ষাকৃত ভাল। তবে এখানে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন রানিগঞ্জ থানার ১৮ জন পুলিশকর্মী। আসানসোল দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারেট সুকেশ জৈন নিজেও আক্রান্ত হয়েছেন।