তৃণমূলের হিংসায় অন্তত ১০৩ জন বিজেপি কর্মী খুন, দাঁতনে নিহত কর্মীকে শ্রদ্ধা জানিয়ে বললেন দিলীপ ঘোষ
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের কুসমি গ্রামে নিহত দলীয় কর্মী পবন জানাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আমার জানার মধ্যে এনিয়ে ১০৩ জন বিজেপি ক
শেষ আপডেট: 20 June 2020 13:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনের কুসমি গ্রামে নিহত দলীয় কর্মী পবন জানাকে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করলেন বিজেপি রাজ্য সভাপতি তথা সাংসদ দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেন, “আমার জানার মধ্যে এনিয়ে ১০৩ জন বিজেপি কার্যকর্তা খুন হয়েছেন রাজনৈতিক হিংসায়। এই সরকার যতদিন থাকবে রাজনৈতিক হিংসা চলবে। দেশ জুড়ে করোনার মতো মহামারীর গ্রাস। ঝড়ের ফলে মানুষ এমনিতেই ভয়ে রয়েছেন। চার দিকে চুরি ডাকাতিও কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। তারপরেও একটা গ্রামের মধ্যে রাজনৈতিক হিংসা চলছে। একটা ছেলে প্রধানমন্ত্রীর চিঠি দিতে লোকের বাড়িতে যাওয়ার সময় তাঁর উপর এভাবে তলোয়ার নিয়ে আক্রমণ করা হয়েছে বাইরে থেকে লোক এনে। আমরা চাই রাজনৈতিক হিংসা ও খুন বন্ধ হোক।”
বুধবার গুরুতর আহত হন পবন জানা। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকতায় স্থানান্তরিত করা হয়। বৃহস্পতিবার তাঁর মৃত্যুর খবর আসে। এদিন তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে যান দিলীপ ঘোষ। তাঁর উপস্থিতিতে মেদিনীপুর থেকে মরদেহ দাঁতনে নিয়ে যাওয়া হয়। সঙ্গে ছিলেন জেলার নেতা জ্যোতির্ময় মাহাত-সহ অন্য বিজেপি কর্মীরা।

প্রথমে রাজনৈতিক সংঘর্ষের কথা মেনে নিলেও পরে এই ঘটনাকে গ্রাম্য বিবাদ বলে দাবি করে তৃণমূল কংগ্রেস। তাদের দাবি খারিজ করে দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “তৃণমূল পার্টির ভেতরে বিবাদ আছে পরস্পরের মধ্যে কিন্তু গ্রাম্য বিবাদ বলে রাজনৈতিক হত্যাকে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করলে এর পরিণাম ভয়ঙ্কর হবে।”
‘প্রধানমন্ত্রী চিঠি’ বিলি করতে বুধবার সন্ধ্যায় দাঁতনের কুসমি গ্রামে গৃহ সম্পর্ক যাত্রায় বের হন বিজেপি কর্মীরা। তখন লাঠি, রড প্রভৃতি নিয়ে তাঁদের উপরে হঠাৎ হামলা করে অন্তত জনা পনেরো দুষ্কৃতী। তারা সকলে তৃণমূল আশ্রিত বলে অভিযোগ। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন ছ’জন বিজেপি কর্মী। তাঁদের প্রথমে দাঁতন গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আঘাত গুরুতর হওয়ায় সেখান থেকে দু’জনকে স্থানান্তরিত করা হয় মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। তাঁদের মধ্যে পবন জানার অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কলকাতায় পাঠানো হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে পবনের মৃত্যু হয়।
পবনের মৃত্যুর খবর পৌঁছতেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা জুড়ে প্রতিবাদ শুরু করে বিজেপি। দাঁতন থানার সামনে শুরু হয় অবস্থান বিক্ষোভ। দীর্ঘক্ষণ পরে বিক্ষোভ তুলে নেয় বিজেপি। তার আগে থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।