দ্য ওয়াল ব্যুরো: দুদিন আগেই দলীয় কাজে কলকাতায় এসেছিলেন শিলিগুড়ির সিপিএম বিধায়ক অশোক ভট্টাচার্য। এক ফাঁকে চলে গিয়েছিলেন বেহালায় সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের বাড়িতে। তারপর সৌরভ এবং ডোনার সঙ্গে চুটিয়ে আড্ডা দেন বেশ খানিকক্ষণ।
শনিবার সেই সৌরভের হার্ট অ্যাটাক হয়। হৃদযন্ত্রে ব্লকেজ ধরা পড়ায় স্টেন্টও বসানো হয়েছে। রবিবার সৌরভের জন্য শিলিগুড়ি থেকে উজিয়ে কলকাতায় আসছেন উত্তরবঙ্গের রাজধানীর পুর প্রশাসক।
গত বছর অশোকবাবুরও বুকে স্টেন্ট বসেছিল। সিপিএম নেতা জানিয়েছেন, "আমার যখন অস্ত্রোপচার হয় সৌরভ হাসপাতালে গিয়ে সাহস দিয়েছিল। আমিও ওঁর জন্য কলকাতা যাব। একবার হাসপাতালে গিয়ে ওঁকে দেখে আসব।"
সৌরভকে নিয়ে এখন রাজনৈতিক জল্পনা তুঙ্গে। আগের দিন মহারাজের সঙ্গে দেখা করে বেরিয়ে অশোক ভট্টাচার্য বলেন, "আমি ওঁকে বলেছি, তোমার রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া উচিত নয়। কারণ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে তোমার গ্রহণযোগ্যতা। সেটা রাজনীতিতে গেলে নষ্ট হতে পারে।”
সৌরভের সঙ্গে অশোকবাবুর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। শিলিগুড়িতে সৌরভ গেলে অশোকবাবুর বাড়িতে খাওয়াদাওয়া করেন। তাঁর স্ত্রীর হাতের রান্নার প্রশংসাও শোনা গিয়েছে মহারাজের মুখে।
অশোকবাবু করোনা আক্রান্ত হয়েছিলেন। কোভিড মুক্ত হয়ে কলকাতায় আসার পর সৌরভ নিজে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চলে গিয়েছিলেন। অশোকবাবুর লেখা কোভিডোত্তর নগর অর্থনীতির উপর একটি বই প্রকাশ অনুষ্ঠানেও সৌরভ হাজির হয়েছিলেন মাস দুয়েক আগে।
হঠাত্ই সেই সৌরভ অসুস্থ। তাঁই তাঁর সঙ্গে দেখা করতে উত্তরবঙ্গ থেকে ছুটে আসছেন অশোকবাবু। অনেকের মতে, সৌরভ অসুস্থ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাসপাতালে গিয়েছেন, অমিত শাহ ফোন করে খোঁজ নিয়েছেন। হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলেন বাম পরিষদীয় নেতা সুজন চক্রবর্তীও। তাঁকে নিয়ে গত কয়েক দিন রাজনৈতিক জল্পনার পারদও চড়েছে। তবে অশোকবাবু আগের দিনই বলেছিলেন, তিনি সৌরভকে পরামর্শ দিয়েছেন রাজনীতিতে না যুক্ত হতে।