দ্য ওয়াল ব্যুরো: মাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীন বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ কেটে দেওয়ায় বিক্ষোভ দেখালেন ইস্টার্ন কোল ফিল্ডসের (ইসিএল) জেকে নগর এলাকার গ্রামবাসীরা। এই খনিটি সাতগ্রাম এরিয়ার অন্তর্গত। মঙ্গলবার সকালে বিক্ষোভের জেরে শ্রমিকরা খনিতে কাজে যেতে পারেননি, ফলে উৎপাদন কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। বিকেল তিনটে পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে।
কিছুদিন আগে নর্থবুক, জেমারি, ইসিএল ব্যারাক, স্কুলপাড়া-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় অবৈধ ভাবে নেওয়া বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেয় ইসিএল কর্তৃপক্ষ। বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়ার আগে ইসিএল নোটিস দিয়েছিল। তবে তাতে কোনও ফল হয়নি। বিদ্যুতের বিল দেওয়ার ব্যাপারে উচ্চবাচ্য করেনি গ্রামবাসীরা।
যাঁরা ইসিএলে কর্মরত প্রতিমাসে ৫০০ টাকা করে তাঁদের দিতে হয় বিদ্যুতের জন্য। এই টাকার বিনিময়ে যত ইচ্ছা বিদ্যুৎ ব্যবহার করা যেতে পারে। অবসরের পরে অনেকই ইসিএলের এলাকায় থাকতে শুরু করায় বেশ কয়েকটি জায়গায় বস্তি তৈরি হয়ে গেছে। এইসব বস্তিতে অবৈধ ভাবে ইসিএলের লাইন থেকে বিদ্যুৎ নেওয়া চলছে বছরের পর বছর ধরে। বিদ্যুতের লাইন বৈধ করার জন্য মাসে ৫০০ টাকা করে ইসিএল দাবি করলে তাতে কর্ণপাত করেনি কেউই, চুরি করা বিদ্যুতেই কাজ চালিয়ে সকলে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল।
সম্প্রতি ইসিএল লাইন কেটে দেওয়ায় বিপাকে পড়ে ওই সব এলাকার লোকজন। এখন মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে, কয়েক দিন পরেই শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা। বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকার জন্য পড়াশোনায় ভীষণ সমস্যা হচ্ছে পড়ুয়াদের, একথা জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। বিদ্যুৎ সংযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য এলাকার বাসিন্দারা বেশ কয়েকবার ইসিএল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন জানিয়েছে কিন্তু তাতে কোনও লাভ হয়নি বলে তাদের বক্তব্য।
সমস্যা শুরু হয় কয়েকটি জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দেওয়ার পরেও কয়েকটি জায়গাকে এখনও বিচ্ছিন্ন করে রাখায়। বিক্ষোভকারী এক মহিলা জানান, বেশ কিছু দিন হল ইসিএল কর্তৃপক্ষ নর্থবুক ও জেমারি গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে দিয়েছে তবে স্কুলপাড়া ও ইসিএল ব্যারাকপাড়া-সহ বেশ কয়েকটি জায়গায় এখনও তারা বিদ্যুৎ সংযোগ নতুন করে দেয়নি। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বৈষম্যমূলক আচরণ করছে ইসিএল কর্তৃপক্ষ।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবৈধ বলে যদি বিদ্যুতের সংযোগ কেটেই দিতে হয় তাহলে সব ক্ষেত্রেই সেই নিয়ম প্রয়োগ করা হোক। কোনও বিশেষ একটি জায়গায় বিদ্যুতের সংযোগ বজায় রেখে অন্যত্র বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা যাবে না।
বেলা তিনটের পরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসে ইসিএল। তাদের বক্তব্য স্পষ্ট। এক মাসের জন্য তারা সংযোগ দেবে, মাসান্তে ৫০০ টাকা করে না পেলে ফের লাইন কেটে দেবে। এই শর্তে গ্রামবাসীরা রাজি হওয়ার পরে ইসিএল জানিয়েছে যে তারা বিদ্যুৎ সংযোগ দেবে।