দ্য ওয়াল ব্যুরো: অন্য কোনও জিনিস দিয়ে তৈরি বাঁশিতে কি সেই মিষ্টতা আনা সম্ভব ঠিক যেমন মিষ্টতা থাকে বাঁশের বাঁশিতে? তা যে সম্ভব সেকথা প্রমাণ করে দিয়েছেন আসানসোলের চেলিডাঙ্গার বাসিন্দা জিতেন রুই দত্ত। পিভিসি পাইপ দিয়ে বাঁশি তৈরি করে তাতে নানা গানের সুর বাজাচ্ছেন তিনি।
পিভিসি পাইপ কিনে তা দিয়ে বাঁশি তৈরি করেননি জিতেন বরং জলের পাইপলাইনে কাজ করার পরে যেসব পাইপের টুকরো পড়ে থাকে সেসব দিয়েই তিনি বাঁশি তৈরি করে বাজান। বাঁশের বাঁশি না বাজিয়ে কেন এমন ভাবনা সেকথা তিনি নিজেই জানালেন।
আসানসোল পুরনিগমের রবীন্দ্র ভবনে সাউন্ড অপারেটরের অস্থায়ী কর্মী হিসাবে কাজ করেন জিতেন। তিনি বলেন, “ছোটবেলা থেকেই আমার বাঁশি বাজাবার ঝোঁক ছিল। মেলা থেকে খেলনার বাঁশি কিনে বাজাতাম। সামান্য বেতন পেয়ে আট থেকে ন’হাজার টাকা খরচ করে ভালো বাঁশি কেনার ক্ষমতা আমার নেই। সেই কারণে নিজের ইচ্ছাকে ধামাচাপা দিতে বাধ্য হলাম। সম্প্রতি রবীন্দ্র ভবন সংস্কার করার পরে অনেক পিভিসি পাইপ পড়ে থাকতে দেখি। সেই পাইপগুলো দিয়ে বাঁশি তৈরি করার কথা মাথায় আসে। অনেক চেষ্টা করে আর অনেক পাইপ নষ্ট করার পরে অবশেষে তৈরি করে ফেললাম মনের মতো বাঁশি। দামি বাঁশির ধুন না এলেও তার কাছাকাছি সুর এতে বাজানো যায়।”
https://www.youtube.com/watch?v=Ed5VYCVa0Tw
রবীন্দ্র সঙ্গীত, হিন্দি গান, বাংলা আধুনিক গান ও লোকগীতি – বিভিন্ন গানের সুর তিনি রপ্ত করে ফেলেছেন পিভিসি পাইপ দিয়ে তৈরি বাঁশিতে।
জিতেন চান পিভিসি পাইপ দিয়ে বাঁশি তৈরির কৌশল তিনি গরিব ঘরের ছেলেমেয়েদের শিখিয়ে দেবেন। অনেকেই হয়তো বাঁশি বাজানো শিখতে চান কিন্তু শিখতে পারেন না টাকার অভাবে। তাঁদের এই বাঁশি তৈরির কৌশল তিনি শেখাতে চান।
বাঁশির কদর রয়েছে। কীর্তনে বাঁশি বাজানো হয়, লোকগীতির অন্যতম অনুসঙ্গও বাঁশি। তাই গ্রামাঞ্চলে তা বাজিয়ে সামান্য আয় করাও অসম্ভব নয়।