দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকাল হতে না হতেই বাড়িতে ফাটল চওড়া হল। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসানসোলের বারাবনি থানার ফরিদপুরের ফুটবল মাঠ সংলগ্ন এলাকায় তাসের ঘরের মতো হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল আস্ত একটি দোতালা বাড়ি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে ওই বাড়িতে স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে বসবাস করতেন শেখ শচীন নামে এক ব্যক্তি। তিনি ইস্টার্ন কোল ফিল্ডের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী। তাঁর বাড়ির পাশেই রয়েছে একটি পরিত্যক্ত খনি। খনির কারণেই এই বিপত্তি বলে প্রাথমিক ভাবে মনে করছে পুলিশ।
এলাকার লোকজনের অভিযোগ সরকারি খাস জমি দখল করে ওই বাড়িটি করা হয়েছিল। তাই এনিয়ে কোনও মহলেই কোনও অভিযোগ জানাতে পারবেন না শেখ শচীন। এমনকি এজন্য কোনও ক্ষতিপূরণও তিনি দাবি করতে পারবেন না।
বৃহস্পতিবার থেকেই বাড়িটিতে ফাটল দেখা গিয়েছিল। তারপরেই বাড়ি থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে ফেলতে শুরু করে দেন লোকজন। আসবাবপত্র রাখেন ফাঁকা মাঠে। তবে অনেক আসবাবপত্রই বাড়ির ভিতরে ছিল। দরকারি নথিপত্রও তাঁরা সরিয়ে নেন। লোকজন বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে ইসিএলের কোয়ার্টার্সে আত্মীয়ের ঘরে রাত কাটান। শুক্রবার ফাটল বাড়তে থাকে। বাড়িটির ফাটল চওড়া হওয়ায় তা দেখতে ফুটবল খেলার মাঠে লোক জমে যায়। কেউই অবশ্য বাড়িটির খুব কাছে যাওয়ার সাহস করেননি।
https://www.facebook.com/TheWallNews/videos/238111580914359/
এদিন সকালে সশব্দে ভেঙে পড়ে বাড়িটি। প্রথমে মাটির উপরে ভেঙে পড়ে পুরো বাড়িটি। পরে জিনিসপত্র সমেত মাটির নীচে চলে যায়। সেখানে এখন একটি গর্ত তৈরি হয়েছে। বাড়ি ভেঙে পড়ার দৃশ্য দেখতে লোক জমে যায়। অনেকে মোবাইল ক্যামেরায় এই ছবি তুলতে থাকেন।
আপাতত আত্মীয়ের বাড়িতেই থাকতে হবে ওই পরিবারের লোকজনকে। বাড়ির মালিক দাবি করেছেন যে জমিটি তিনি কিনেছিলেন। কার কাছ থেকে কিনেছিলেন এবং পরিত্যক্ত খনির পাশে কেন কিনলেন সেপ্রশ্নের জবাব তিনি দেননি। শুধু বলেন যে ফাঁকা জায়গায় জমি কিনে বাড়ি করা ভুল হয়েছিল।