দ্য ওয়াল ব্যুরো: কানে হেডফোন গুঁজে গাড়ি চালানো যাবে না, পথ দুর্ঘটনার সংখ্যা কমাতে একথা ঘোষণা করল উদ্বিগ্ন আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। শুধু আসানসোল শিল্পাঞ্চলেই পথ দুর্ঘটনায় দু’মাসে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা কমাতে দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকার তরুণদের হাসপাতালের মাধ্যমে প্রাথমিক চিকিৎসার পাঠ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে ট্রাফিক পুলিশ।
গত জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে পথ দুর্ঘটনায় আসানসোলে দশ জনের মৃত্যু হয়েছে। অনেক সময় দেখা গেছে দুর্ঘটনার বেশ কিছুক্ষণ পরে পুলিশে খবর দেওয়া হচ্ছে। পুলিশ এসে অ্যাম্বুল্যান্স ডাকার পরে আহতকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দীর্ঘক্ষণ কোনও চিকিৎসা না পাওয়ায় অনেক সময় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই আহতের মৃত্যু হচ্ছে।
প্রাথমিক চিকিৎসা সম্বন্ধে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকার জন্য এই সমস্যা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা করা হলে হয়তো আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হত, তাঁর মৃত্যু এড়ানো যেত।
দুর্ঘটনাপ্রবণ বিভিন্ন এলাকার কাছাকাছি দোকানি ও তরুণদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রথম দফায় দশ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরে একথা ঘোষণা করেছে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট। দ্বিতীয় দফায় আরও তিরিশ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। আসানসোলে দুর্ঘটনার হার বেশি বলে পুলিশ ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি জায়গা এখানে চিহ্নিত করেছে। এইসব এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে থেকেই কয়েক জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে পুলিশের উদ্যোগে। হাসপাতালের সাধারণ চিকিৎসক, অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ও শল্য চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসার পাঠ দিচ্ছেন।
একমাস ধরে আসানসোল জেলা হাসপাতালে পথবন্ধুদের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। আহতকে কী ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা করে হাসপাতাল বা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পাঠানো যাবে তার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখান থেকে কাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে তা স্থির করে দিচ্ছে ট্রাফিক পুলিশ।
আহতকে সাহায্য করতে গিয়ে পাছে সমস্যায় জড়িয়ে পড়েন এমন আশঙ্কা থেকে অনেক সময় দুর্ঘটনাগ্রস্তকে সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেন না। পুলিশ এখন প্রচার করছে যে, কোনও ব্যক্তি যদি দুর্ঘটনায় আহত কাউকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান তাহলে পুলিশ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও মামলা করতে পারে না। এব্যাপারে দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ রয়েছে বলেও প্রচার করার সময় পুলিশ জানাচ্ছে।
সচেতনতা বাড়াতে ‘সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ’ কর্মসূচিতে জোর দিয়ে সাধারণ মানুষকে আরও বেশি সচেতন করার ব্যাপারে জোর দিচ্ছে পুলিশ।
বাইকের চালক ও আরোহীরা হেলমেট পরছেন কিনা এবং চারচাকার গাড়ির সামনের আসনে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা সিট বেল্ট বাঁধছেন কিনা সেদিকে আরও কড়া ভাবে নজর রাখছে পুলিশ প্রশাসন।