দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: করোনায় আক্রান্ত হলেন আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনার সুকেশ জৈন। সোমবার শারীরিক অসুস্থতা অনুভব করায় তিনি নিজেকে অফিস থেকে সরিয়ে নেন। সেই দিন থেকেই নিজের ইচ্ছায় তাঁর সরকারি বাসভবন ইসকোর গেস্ট হাউসে তিনি হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন। এই কয়েক দিন সেখান থেকেই কমিশনারেটের কাজকর্ম পরিচালনা করছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে কাল বৃহস্পতিবার সুকেশ জৈনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। রাতেই কলকাতা থেকে রিপোর্ট আসে। জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। তিনি ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকার ডুবুডিহি চেকপোস্টে ব্যাপক ভাবে কাজ করেছিলেন। এই চেকপোস্ট দিয়েই ভিনরাজ্য থেকে শ্রমিকরা ফিরছিলেন। তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করার পাশাপাশি শ্রমিকদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যাপারেও অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছিলেন। পুলিশের অনুমান, এই কাজ করতে গিয়েই তিনি করোনায় সংক্রামিত হয়ে থাকতে পারেন। তাঁর বাড়ি ও অফিস কবে স্যানিটাইজ করা হবে সে ব্যাপারে এখনও কিছু জানা যায়নি।
পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে এখন তিনি বাড়িতে থেকেই কাজ করছেন। তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।
এর আগে আসানসোল-দুর্গাপুরের পুলিশ কমিশনারেটের মোট চোদ্দো জন পুলিশ কর্মী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁরা সকলেই রানিগঞ্জ থানায় কর্মরত।
বিভিন্ন জেলায় তো বটেই, কলকাতা পুলিশের সদর দফতর লালবাজারেও এখন করোনার থাবা। তবে পুলিশ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ করতে শুরু করেছে। মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি কোনও জায়গায় আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলে সেখানে ফেসগার্ড ব্যবহার করতে শুরু করেছে তারা। রাস্তায় নেমে বাজার সামলানো থেকে করোনা সচেতনতার প্রচার – সবই করতে হচ্ছে পুলিশকে। তাই তাঁদের সতর্ক ভাবে কাজ করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমানে স্বাস্থ্যকর্মীরাও একের পর এক করোনায় আক্রান্ত হতে শুরু করেছেন। ফলে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে প্রশাসনের। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতরের এক কর্মীর রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তিনি আসানসোল জেলা হাসপাতালের কর্মী আবাসনে থাকতেন। ফলে সেখানেও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রাজ্য সরকারের সর্বশেষ রিপোর্ট অনুযায়ী পশ্চিম বর্ধমানে এ পর্যন্ত ৫৪৭ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৭৩ জন সুস্থ হয়ে উঠলেও আট জনের মৃত্যু হয়েছে। ২৬৬ জন এখনও করোনা পজিটিভ। এই রিপোর্ট অনুযায়ী বুধবার ৩৬ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। উদ্বেগের বিষয় হল জেলায় এক লাফে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৬৫ জন বেড়েছে।