আসানসোলে বেশি দামে দেশি রাখি কিনতে অনীহা ক্রেতাদের, সমস্যায় ব্যবসায়ীরা
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: এক দিকে সোশ্যাল মিডিয়া চিনা পণ্য বর্জনের ডাক আর এক দিকে বেশি দামে দেশি রাখি কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের চরম অনীহা। এই দুয়ের যাঁতাকলে সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের ব্যবসায়ীরা। আংশিক লকডাউন তাঁদের সমস্যা আরও ব
শেষ আপডেট: 1 August 2020 07:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: এক দিকে সোশ্যাল মিডিয়া চিনা পণ্য বর্জনের ডাক আর এক দিকে বেশি দামে দেশি রাখি কেনার ব্যাপারে ক্রেতাদের চরম অনীহা। এই দুয়ের যাঁতাকলে সমস্যায় পড়েছেন পশ্চিম বর্ধমানের ব্যবসায়ীরা। আংশিক লকডাউন তাঁদের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
আগামী সোমবার রাখিপূর্ণিমা। প্রতি বছরই রাখিপূর্ণিমার এক সপ্তাহ আগে থেকে জেলার বাজার ছেয়ে যায় রংবেরঙের রাখিতে। ভাইয়ের মঙ্গল কামনায় ও ভাতৃত্বের বন্ধন দৃঢ় করতে বোনেরা রাখি বেঁধে দেয় ভাইয়ের হাতে। শিল্পাঞ্চলে রাখির পসরা নিয়ে বসেন ছোট-বড় ব্যবসায়ীরা। এ বছর অবশ্য ছবিটা সম্পূর্ণ আলাদা। দীর্ঘ দিন লকডাউন চলায় এবং তার পরেও গণপরিবহণ বন্ধ থাকার ফলে রাখির ব্যবসা সে ভাবে জমেনি। তা ছাড়া এবার পরিবহণ বন্ধ থাকায় বোনেরা ভাইয়ের কাছে রাখি বাঁধতে যেতে পারবে কিনা সন্দেহ। সেই কারণেও বিক্রি কম। ফলে চিন্তায় ব্যবসায়ীরা।
আসানসোল বাজারে পাইকারি রাখি বিক্রেতার বক্তব্য, সরকার ডিজেলের দাম বৃদ্ধি করাতে এবং লকডাউনের কারণে শ্রমিকের অমিল হওয়ায় বেশি মজুরি দিয়ে শ্রমিক আনতে হচ্ছে। লকডাউনের কারণে পাশের রাজ্য থেকে ব্যবসায়ীদের এই রাজ্যে আসতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। এই সব কারণে স্থানীয় ভাবে তৈরি রাখির দাম অত্যন্ত বেশি হয়ে গেছে। অগ্নিমূল্য হওয়ার ফলে এ বছর রাখির বিক্রি কমে গেছে।” এখন তাঁরা আশঙ্কা করছেন, যে পরিমাণ টাকা ঢেলেছেন তা উঠবে কিনা। মানে মূলধনের টাকাটুকু উঠবে নাকি লোকসান হবে।

ভারতীয় রাখি বেশি দাম। এবছর তা আরও বেড়েছে একই সঙ্গে চিনা জিনিস বর্জন চলছে। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতি হল, ক্রেতারা ভারতীয় রাখি কেনার জন্য বেশি দাম দিতে রাজি নন।
রাখির চিরকালই আলাদা কদর রয়েছে। কিন্তু জেলার অধিকাংশ জায়গাতেই এখন আংশিক লকডাউন চলছে। তাই ভাই-বোনের বাড়ি দূরে হলে যাওয়ার উপায় নেই বললেই চলে। তাছাড়া অনেকে রোজগার হারানোয় খরচেও সমস্যা রয়েছে।
আগামী সোমবার রাখিবন্ধন উৎসব। এই দিনটিও এখন বাঙালির অন্যতম পার্বন হয়ে উঠেছে। অনেকেই রাখি বিক্রি করেন ‘সিজিন্যাল ব্যবসা’ হিসাবে। এবারে যাঁরা তা করছেন তাঁরা লোকসানের আশঙ্কা করছেন। আসানসোল, দুর্গাপুর প্রভৃতি শহরের অনেক দোকানের বাইরেই এখন রাখি ঝোলানো রয়েছে। তবে কেনার লোক নেই বললেই চলে। কপালে চিন্তার ভাঁজ ব্যবসায়ীদের।