বাঁকুড়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে নষ্ট ১৬০ কোটি টাকার ওপর আম, মাথায় হাত চাষিদের
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার কালবৈশাখী ঝড় তো বটেই তার উপরে উমফানের দাপটে বাঁকুড়া জেলায় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি আম নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবছর চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়ল বাঁকুড়া জেলার আম চাষ। সব মিলিয়ে এই জেলায় চাষিদের একশো ষাট কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছ
শেষ আপডেট: 22 June 2020 13:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: লাগাতার কালবৈশাখী ঝড় তো বটেই তার উপরে উমফানের দাপটে বাঁকুড়া জেলায় পঞ্চাশ শতাংশের বেশি আম নষ্ট হয়ে গেছে। ফলে এবছর চূড়ান্ত ক্ষতির মুখে পড়ল বাঁকুড়া জেলার আম চাষ। সব মিলিয়ে এই জেলায় চাষিদের একশো ষাট কোটি টাকার উপরে ক্ষতি হয়েছে।
এক সময় এই রাজ্যে আম চাষে আধিপত্য ছিল মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলার। ধীরে ধীরে ওই দুই জেলার আমের বাজারে থাবা বসাতে শুরু করে বাঁকুড়া জেলা। গত এক দশকে এই জেলার ২৬৮০ হেক্টর লাল কাঁকরে জমিতে তৈরি হয়েছে আমের বাগান। এখানে তৈরি হয়েছে আম্রপালী, মল্লিকা, আলফানসো ও ল্যাংড়া আমের বাগান। সব মিলিয়ে এই বাগানগুলিতে প্রতি বছর গড়ে আমের উৎপাদন হয় মোটামুটি ভাবে ১৫ হাজার মেট্রিক টন। শুধু জেলার বাজারেই নয়, অন্য জেলা, দেশের অন্য রাজ্য এমনকি বিদেশের বাজারেও রফতানি করা শুরু হয়েছে বাঁকুড়ার আম।
এ বছর সেই আম চাষেই বিরাট ক্ষতির মুখে পড়েছেন কৃষকরা। গাছে মুকুল আসার পর থেকে লাগাতার কালবৈশাখীতে এবার আমের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তার পরে বড় ধাক্কা দিয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় উমফান। সরকারি হিসাবে জেলার ২৬৮০ হেক্টর আম বাগানের মধ্যে ১৬০৮ হেক্টর জমির আম ঝরে নষ্ট হয়ে গেছে। জেলার উদ্যানপালন দফতরের হিসাব অনুযায়ী বাগানগুলিতে সব মিলিয়ে ৮০৪০ মেট্রিক টন আম নষ্ট হয়েছে। আর্থিক হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ একশো ষাট কোটি টাকা।

জেলার উদ্যানপালন বিভাগের উপ-অধিকর্তা মলয় মাজি বলেন, “এখন যে ফলন্ত বাগান আছে তা প্রায় ২৬৮০ হেক্টর। এই বাগান গত বছর ফল দিয়েছিল। এবছর অফ-ইয়ার হওয়ায় তুলনামূলক ভাবে ফলন কিছুটা কম হওয়ার কথা। সেই অনুযায়ী ফলনও এসেছিল কিন্তু যেটা দুর্ভাগ্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগ – প্রথমে শিলাবৃষ্টি, তারপরে উমফান এবং তার পরবর্তীতে ঝড় – এই তিনটে কারণে আমাদের হিসাবে প্রায় ১৬০০ হেক্টর আমের বাগানের ফলন নষ্ট হয়েছে। সেটাও পনেরোশো থেকে সাড়ে পনেরোশো মেট্রিকটনের কাছাকাছি। আমরা সেই জায়গায় মনে করছি উৎপাদন সাত থেকে আট হাজার মেট্রিক টনের কাছাকাছি থাকবে।” তিনি জানিয়েছেন, এর পরেও যে চাষিরা ভাল পরিচর্যা করে বাগানে আম রাখতে পেরেছিলেন এবং কম উচ্চতার যে সব গাছ রয়েছে সেই সমস্ত গাছে আম আছে এবং তাঁরা ভাল দাম পাবেন। মালদহ ও মুর্শিদাবাদেও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফলে বাজারে চাহিদা রয়েছে। তাই দাম পাবেন চাষিরা।