দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের ‘বিমান বিভ্রাট’। এমনিতেই সিপিএম কিছুতেই আর সে ভাবে পায়ের তলায় মাটি পাচ্ছে না। এর মধ্যেই দলের পলিটব্যুরোর সদস্যের আচরণে বীরভূমের লালমাটিতে গোঁত্তা খেল সিপিএমের মান-সম্মান।
সোমবার তারাপীঠ থেকে রামপুরহাট পর্যন্ত সম্প্রীতির মহামিছিলের ডাক দিয়েছিল বীরভূম জেলা বামফ্রন্ট। বেশ কয়েকদিনের প্রস্তুতি নিয়ে মহামিছিলে বড় জমায়েতও করেছিলেন বামকর্মীরা। কিন্তু সবেতে জল ঢেলে দিলেন বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসু। কলার ধরলেন দলীয় কর্মীর। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই অশালীন ভাষায় আক্রমণ করলেন সাংবাদিককে।
মিছিল শেষে রামপুরহাটে একটি ছোট মঞ্চ বেঁধে সভার আয়োজন করেছিলেন রামচন্দ্র ডোমরা। সেখানেই বিমানবাবু বক্তৃতা করতে উঠেছিলেন। এক মধ্যবয়সী দলীয় কর্মী ব্যাক ক্যামেরা অন করেই ছবি তুলতে উঠছিলেন মঞ্চে। ওমনি চোখ যায় বিমান বসুর। কলার ধরে নেন ওই কর্মীর। তাঁর তো তখন থতমত অবস্থা। দল বলেছে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার করতে। সেই কারণেই দলের শীর্ষস্থানীয় নেতার ছবি তুলতে উঠেছিলেন হয় তো! কিন্তু ক্রুদ্ধ বিমান বসুকে আর সে সব কে বোঝায়! ফোন ছুড়ে ফেলে দেন। কলার ধরে নামিয়ে দেন ওই কর্মীকে। তারপর মাইকেই বলতে থাকেন, “আবার কায়দা করে সেলফি তুলতে এসেছে!” দলের এক কর্মীর আক্ষেপ, “বিমানদা এটাও বোঝেন না যে, ব্যাক ক্যামেরা অন করে সেলফি তোলা যায় না!”
এ তো গেল কর্মীকে নিগ্রহ। এরপর সভা সাঙ্গ হওয়ার পর সাংবাদিক বৈঠকে বিরক্ত হয়ে যা বললেন, তা শুনে অনেকেই বলছেন প্রয়াত সিপিএম নেতা বিনয় কোঙারের স্মৃতি ফেরালেন বিমান।
কী করলেন সেখানে?
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, ১৯ জানুয়ারি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভায় কি বামেদের কোনও প্রতিনিধি থাকবেন? বিমানবাবুর উত্তর, “আমাদের তো থাকার কোনও কথা হয়নি।” এরপর ফের সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যদি আমন্ত্রণ জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়? অল্প রেগে বিমানের জবাব, “যদি দিয়ে কাজ হয় কোনও? বিবাহিত নন এমন পুরুষ বা মহিলার যদি সন্তান হয়!” এরপর ফের বিনয়ের সঙ্গে বিমানের উদ্দেশে সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যদি কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সায় দেয়? এরপরই আরও ক্ষেপে গিয়ে বিমান বলেন, “শুনুন! আপনি যা খুশি লিখুন। আপনার কথাবার্তার ঢংটা হচ্ছে আলপিন নিয়ে ঘোরা। আলপিনটা আপনার পা...য় (পশ্চাদ্দেশ) লাগান।”
কিন্তু সাংবাদিকের এই প্রশ্ন কি একেবারেই অমূলক? মোটেই নয়। এই তো কয়েক মাস আগে দিল্লিতে কেরলের মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম পলিটব্যুরোর সদস্য পিনারাই বিজয়নের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেছিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ব্রিগেডে আসার জন্য পিনারাইকে আমন্ত্রণও জানিয়েছেন মমতা। যে দিন দুপুরে বিমান বসু এই কাণ্ড করলেন, সে দিন বিকেলেই পার্লামেন্টের অ্যানেক্স হলে বিরোধী দলের বৈঠকে মমতার সঙ্গে যোগ দিয়েছেন সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরিও। মমতার একটা চেয়ার পরেই বসেছিলেন ইয়েচুরি।
বিমান বসুর কু-কথা এই প্রথম নয়। এর আগেও এরকম বহুবার করেছেন এই বাম নেতা। একবার আলিমুদ্দিন স্ট্রিটে মহিলাদের শাড়ি সংক্রান্ত ব্যাপারে মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন। তারপর বিবৃতি দিয়ে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তিনি। বীরভূমের ঘটনার জন্য দুঃখপ্রকাশ কি না এখন সেটাই দেখার।
https://www.youtube.com/watch?v=QCRU8mhjEpU