দ্য ওয়াল ব্যুরো: করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৬৫ বছরের প্রৌঢ় মহম্মদ কাসেম। সেইসঙ্গে ছিল অন্যান্য অনেক সমস্যা। আর্টারিতে প্রায় ৯৫ শতাংশ ব্লক ছিল প্রৌঢ়ের। করোনা আক্রান্ত এই রোগীর শরীরে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি করে স্টেন্ট বসিয়ে তাঁকে সুস্থ করে তুললেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের চিকিৎসকরা। এই প্রথম কোনও সরকারি হাসপাতালে এ ধরনের চিকিৎসা হয়েছে। কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগে সম্পন্ন হয়েছে এই কর্মকাণ্ড।
গত কয়েকমাস ধরেই কোভিড চিকিৎসা চলছে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। গত ১৯ জুন এখানে ভর্তি করা হয় মহম্মদ কাসেমকে। করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ষাটোর্ধ্ব এই প্রৌঢ়। সেইসঙ্গে ছিল বুকে তীব্র যন্ত্রণা। একে করোনায় আক্রান্ত তায় বুকে ব্যথা, বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ভর্তিই নিতে চায়নি প্রৌঢ়কে। এরপর কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি নেওয়া হয় মহম্মদ কাসেমকে।
প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরেই চিকিৎসকরা বুঝতে পারেন হার্ট অ্যাটাক হয়েছে। এবং বিষয়টি হার্ট ফেলিওরের দিকে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা হার্টের পাম্পিং ব্যবস্থা সচল রাখতে ওষুধ প্রয়োগ করেন। কিন্তু ওষুধে সেভাবে সাড়া দিচ্ছিলেন না প্রৌঢ়। এরপরেই চিকিৎসকরা ওই প্রৌঢ়ের অ্যাঞ্জিওগ্ৰাম করার সিদ্ধান্ত নেন। সেটা করতে গিয়ে চিকিৎসকরা দেখেন প্রৌঢ়ের গুরুত্বপূর্ণ আর্টারিতে ৯৫ শতাংশ ব্লক রয়েছে। দ্রুত স্টেন্ট বসানোর সিদ্ধান্ত নেন চিকিৎসকরা। প্রৌঢ়ের শরীরে অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টির মাধ্যমে স্টেন্ট বসানো হয়।
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান ডক্টর শান্তনু গুহর নেতৃত্বে ডক্টর অভীক কারক, ডক্টর বাসবেন্দ্র চৌধুরী এবং ডক্টর মিতা বর এই গোটা প্রক্রিয়ায় যুক্ত ছিলেন। কলকাতা মেডিকেল কলেজের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান নির্মল মাঝি বলেছেন, জটিল করোনা আক্রান্ত রোগীদের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে মানুষকে বাঁচানোর কাজ করা হচ্ছে। সাফল্যও আসছে। এছাড়াও কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস বলেছেন, সবসময়েই সকল চিকিৎসকরা চেষ্টা করছেন সব রোগীদের সম্পূর্ণ সুস্থ করে বাড়ি ফেরাতে। এই কর্মকাণ্ডের সম্পূর্ণ কৃতিত্ব কার্ডিওলজি বিভাগের চিকিৎসকদের।