দ্য ওয়াল ব্যুরো: লুক ইস্ট।
পূবে তাকাও। এটাই লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি-র স্লোগান। নতুন মাটিতে ফসল ফলাতে মরিয়া অমিত শাহরা। উত্তর ভারতে কী হবে পরের কথা। উনিশের ভোটের পর নয়া দিল্লির সাত নম্বর রেস কোর্স রোডে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে নরেন্দ্র মোদীকে পাঠাতে হলে পূর্ব ভারত এবং উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি থেকেই যে আসন তুলে আনতে হবে, এ কথা ঢের বুঝেছেন বিজেপি নেতারা।
লোকসভা ভোটের আর মাস সাতেক বাকি। এর মধ্যেই বাংলার জন্য স্পেশাল লাইন অফ অ্যাকশন ঠিক করে ফেলেছে টিম অমিত শাহ। প্রতিটি কেন্দ্রে সাংগঠনিক কাজ পরিচালনা করতে লোক নিয়োগ করবেন স্বয়ং বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচন তো আর শুধু মাইক ফুঁকে হবে না, তার জন্য চাই বুথ স্তরের সংগঠন। আর সেই নির্বাচনী সংগঠন পরিচালনার জন্য ৪২টি কেন্দ্রেই বসানো হবে পর্যবেক্ষক। ইতিমধ্যেই রাজ্য বিজেপি-কে আসন জেতার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিয়েছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন ৪২-এ ৪২ আর বিজেপি সভাপতি বলেছেন ৪২-এ ২২। তবে লড়াই যে সহজ হবে না, তা ভালই জানেন গেরুয়া শিবিরের নেতারা। বিজেপি সূত্রের খবর, একেবারে তৃণমূল স্তর পর্যন্ত নির্বাচনী প্রচার পৌঁছে দিতে শুধু মূরলীধর সেন লেনের উপর ভরসা না করে দিল্লি থেকেই লোক পাঠাচ্ছেন অমিত শাহ।
ঠিক যেন ত্রিপুরার কায়দা। ত্রিপুরায় সিপিএমের পায়ের তলার মাটি ধসিয়ে দিয়েছিল টিম বিজেপি। নেতৃত্বে ছিলেন সুনীল দেওধর। সেই সঙ্গে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত আরএসএস-এর ক্যাডাররাও। দিনের পর দিন, বিভিন্ন এলাকায় বেস ক্যাম্প তৈরি করে চারপাশের এলাকা চষে ফেলেছিলেন তাঁরা। এই বাংলায়ও ভোটের খানিকটা দেরি থাকলেও ওয়ার্ম আপ শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। কয়েকদিন আগেই পশ্চিম মেদিনীপুরে এসে রাত কাটিয়ে গিয়েছেন কেন্দ্রীয় জলসম্পদমন্ত্রী অর্জুন রাম মেঘওয়াল। তিনি যে আবার আসবেন, তাও জানিয়ে গিয়েছিলেন কেশিয়াড়িতে এসে। রাতে মেদিনীপুর শহরে জেলার নেতাদের সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠকও সারেন মন্ত্রী। সমঝে দেন আগামী কয়েক মাসের রুট ম্যাপ।
শুধু তো লোক-লস্কর দিয়েই হবে না। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বিজেপি ভালই জানে ঢালহীন-তলোয়ারহীন নিধিরাম সর্দার দিয়ে ভোট হবে না। হাতিয়ারও লাগবে তেমন। এর আগেই বিজেপি ঠিক করেছিল প্রতিটি বিধানসভা এবং প্রতিটি লোকসভার পর্যবেক্ষকদের জন্য প্রায় ৩৫০টি বুলেট মোটরসাইকেল কিনবে তারা। যাতে গতি আর আওয়াজ, দুটোতেই প্রতিপক্ষর থেকে এগিয়ে থেকে খেলা শুরু করতে পারে। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, বুলেট তো থাকছেই। সেই সঙ্গে প্রতিটা কেন্দ্রে তৈরি হবে ডিজিটাল যুদ্ধঘর। যেখান থেকে পরিচালিত হবে নির্বাচনের সাংগঠনিক কাজ। সোশ্যাল মিডিয়ার ময়দান দখলের নীল নক্সা আঁকা হবে ওই ঘরে বসে। সেখান থেকেই রিপোর্ট যাবে অমিত শাহের কাছে।
তাই বাংলার সবুজ মাঠে জোড়া ফুলের চাষ থামিয়ে পদ্ম ফোটাতে লোক পাঠাবেন অমিত শাহই। ত্রিপুরা, অসমের মতো রাজ্যগুলির গদি উল্টে দেওয়ার রেকর্ড রয়েছে যাঁদের ঝুলিতে। বিজেপি-র এই কৌশলে তৃণমূল ভিতর ভিতর উদ্বিগ্ন হলেও শাসক দলের নেতারা বলছেন, “অমিত শাহ বাংলার রাজনীতির রসায়নটাই বোঝেন না। বাংলার মাটি, দুর্জয় ঘাঁটি, টের পাবে দুর্বৃত্ত।”