দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলা সফরের দ্বিতীয় তথা অন্তিম দিনে একগুচ্ছ কর্মসূচি ছিল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। সল্টলেকের ইজেডসিসিতে সাংগঠনিক বৈঠক সেরেই তিনি গেলেন নিউটাউনের গৌরাঙ্গনগরে মতুয়া সম্প্রদায়ের হরি গুরুচাঁদ মন্দিরে। তারপরে বাগুইআটিতে মতুয়া মহাসঙ্ঘের সদস্য নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারলেন তিনি।
ইজেডসিসি থেকে প্রথমে হরি গুরুচাঁদ মন্দিরে যান অমিত শাহ। সেখানে তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ, রাহুল সিনহা, কৈলাস বিজয়বর্গীয়রা। সেখানে তাঁর অভ্যর্থনার জন্য ফুল হাতে রাস্তার দু’দিকে উপস্থিত ছিলেন অনেক মানুষ। অমিত শাহ সেখানে পৌঁছনোর পরেই শুরু হয় স্লোগান। ফুল দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানানো হয়। বাজে ঢাক-ঢোল। মন্দিরে গিয়ে মূর্তিতে মাল্যদান করেন তিনি।
সেখান থেকে বেরিয়ে নিউটাউনের আদর্শপল্লীতে বিজেপি কর্মী তথা মতুয়া মহা সঙ্ঘের সদস্য নবীন বিশ্বাসের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজ সারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। খাবারের মেনুতে ছিল রুটি, ছোলার ডাল, পনির, প্লেন রাইস, মুগ ডাল, শুক্ত, জলপাইয়ের চাটনি ও নলেন গুড়ের পায়েস। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে মধ্যাহ্নভোজ খাওয়ানোর জন্য সবই নিজের হাতে রান্না করেন নবীন বিশ্বাসের স্ত্রী সুচন্দ্রা বিশ্বাস। প্রায় ২৫ মিনিট সেখানে তিনি ছিলেন। অমিত শাহ যাওয়ার পরে সংবাদমাধ্যমের সামনে নবীন বিশ্বাস জানিয়েছেন, নলেন গুড়ের পায়েস সবথেকে বেশি ভাল লেগেছে তাঁর। আবার কলকাতায় এলে তিনি পায়েস খাবেন বলে নাকি জানিয়েছেন তিনি।
অমিত শাহ আসার অনেক আগে থেকেই আদর্শপল্লীতে নবীন বিশ্বাসের বাড়ির সামনে রাস্তায় দেখা যায় মানুষের ঢল। রাস্তার দু’ধারে জড়ো হন প্রচুর মানুষ। সামাল দিতে ব্যস্ত থাকে পুলিশ। রাস্তার দুধারে ভিড় সামাল দিতে দড়ি দিয়ে ব্যারিকেড করে পুলিশ। মোতায়েন ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও।
এর আগে গতকাল বাঁকুড়ার মুকুটমণিপুর যাওয়ার রাস্তার উপর প্রত্যন্ত গ্রাম চতুরডিহির বাসিন্দা বিভীষণ হাঁসদার বাড়িতে দুপুরের খাবার খান অমিত শাহ। সেদিন দরিদ্র আদিবাসী পরিবারে অমিত শাহের জন্য ছিল ভাতের সঙ্গে ডাল, আলু পোস্ত, করলা ভাজা, পটল ভাজা, বেগুন ভাজা, শাক ভাজা, পোস্ত বড়া, ডিংলার (কুমড়ো) ঝাল আর চাটনি। বাঁকুড়ার ঐতিহ্য মেচা সন্দেশও তুলে দেওয়া হয় দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাতে। খেজুর পাতার চাটাই পেতে আসন সাজানো ছিল। কাঁসার থালায় কলাপাতা পেতে ভাত বেড়ে দেওয়া হয় তাঁকে।
যদিও অমিত শাহের এই পরপর দু’দিন আদিবাসী ও মতুয়া পরিবারে খাওয়া নিয়ে কটাক্ষ করেছে তৃণমূল, কংগ্রেস ও সিপিএম। তিন দলেরই অভিযোগ, পাবলিসিটি স্টান্ট ছাড়া এটা আর কিছুই নয়। কারণ অমিত শাহ গিয়ে খেয়ে চলে এসেছেন। যাঁদের বাড়িতে খেয়েছেন তাঁদের সঙ্গে কথাও বলেননি তিনি।