দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুপার সাইক্লোন উমফানের ঝাপটা শুরু হতেই দক্ষিণ বঙ্গের জেলায় জেলায় বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে। ফলে বিকেল থেকেই লোডশেডিং কলকাতা-সহ শহরতলির অধিকাংশ এলাকায়।
এদিন দুপুরেই নবান্নের কন্ট্রোল রুমে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নির্দেশ দিয়েছিলেন, যেখানে যেখানে ঝড়ের প্রভাব তীব্র হতে পারে সেখানে সেখানে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দিতে। তার আগেই অনেক জায়গায় কারেন্ট চলে গিয়েছিল। মুখ্যমন্ত্রীর ওই নির্দেশের পর কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, দুই চব্বিশ পরগনা, দুই মেদিনীপুর, নদিয়ার শহর ও গ্রামাঞ্চল বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তবে মমতা এও বলেন, হাসপাতাল-সহ জরুরি পরিষেবার জায়গাগুলি যাতে বিদ্যুৎহীন না হয়ে যায় সেটাও দেখতে হবে
রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদের এলাকাতো বটেই, সিইএসসি এলাকাতেও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। ঝড়ের গতিবেগ এতটাই তীব্র হচ্ছে যে ইতিমধ্যেই দুই চব্বিশ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুরের উপকূলবর্তী এলাকা ছাড়াও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গে লণ্ডভণ্ড অবস্থা। গাছ, সিগন্যাল পোস্ট, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ার ঘটনা ঘটছে। সন্ধে পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে নবান্ন। তাই সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবেই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কারও জীবনহানির ঘটনা ঘটবে না।
গতকাল, মঙ্গলবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় বিদ্যুৎমন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছিলেন, ঝড়ের কারণে বহু জায়গায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। এদিন ঝড় শুরু হতে তাই দেখা গিয়েছে। বুধবার দুপুর থেকেই ঝড়ো হাওয়া বইতে শুরু করে। সন্ধে থেকে আগামী কয়েক ঘণ্টা আরও আগ্রাসী হবে উমফান। তাই অনেকেরই আশঙ্কা, বিদ্যুৎ সংযোগ চালু হতে ঠিক কতটা সময় লাগবে!
তার কারণ, লকডাউনের ফলে অনেকেই এখন বাড়ি থেকে কাজ করতে হচ্ছে। ফলে বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলে বিপাকে পড়তে হবে বহু মানুষকে। সিইএসসির শ্রীরামপুর ডিভিশনের আধিকারিক অভিষেক চক্রবর্তী বলেন, "বড় কোনও ক্ষতি না হলে ঝড় কমার পরই কারেন্ট চলে আসবে অনেক জায়গায়। তবে এখনও পর্যন্ত যা খবর পাচ্ছি, তাতে গ্রামাঞ্চল ও উপকূলবর্তী অংশে বেশ কয়েকদিন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।"