দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বুধবারের লকডাউনে দিনভর কড়া নজরদারি চলল পশ্চিম বর্ধমান ও আসানসোল সীমানা জুড়ে। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধে রাজ্য সরকারের নির্দেশে আগস্ট মাসে এদিনই ছিল প্রথম সম্পূর্ণ লকডাউন।
পশ্চিম বর্ধমান জেলার ডুবুরডি, রূপনারায়ণপুর ও কল্যাণেশ্বরী চেক পোস্টে বুধবার সকাল থেকে শুরু হয়ে যায় পুলিশের কড়া নজরদারি। এদিন খাদ্যদ্রব্য পরিবহণকারী কোনও গাড়ি আটকানো হয়নি। কাঁচা আনাজের গাড়ি, অ্যাম্বুল্যান্স ও পেট্রোপণ্যের গাড়ি এ রাজ্যে ঢুকতে দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে এ রাজ্যে অ্যাম্বুল্যান্স ছাড়া অন্য যে সব গাড়ি ঢুকতে চেয়েছে তাদেরও আটকানো হয়নি। তবে অন্য কোনও গাড়ি ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
আগের দুটো লকডাউনে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় নিয়ম ভাঙার জন্য পুলিশ অনেককে গ্রেফতার করে। খাবারের দেকান বন্ধ করতে উনুনে জল ঢেলে দেয়। এদিন অবশ্য তেমন কিছু দেখা যায়নি। দিনভর বৃষ্টির জন্য এমনিতেই লোকে ঘর থেকে বের হয়নি। ফলে পুলিশকেও জোর করতে হয়নি। এদিন কাউকে আটক বা গ্রেফতারের কথা পুলিশ কমিশনারেট থেকে এখনও জানানো হয়নি।
করোনা সংক্রমণের নিরিখে কলকাতার ঠিক পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা। এই জেলার সদর শহর বারাসতে মাসের প্ৰথম লকডাউনে বুধবার সকাল থেকেই রাস্তাঘাট ছিল শুনশান। এমনিতেই বৃষ্টিতে রাস্তাঘাটে গাড়ি কম থাকে। তার উপরে লকডাউন থাকায় খুব জরুরি দরকার ছাড়া এদিন রাস্তায় লোকজন বিশেষ ছিল না। দোকানপাট থেকে বাজার, হাট কোনও কিছু এদিন খোলেনি। তাই পুলিশকেও খুব একটা তৎপর হতে দেখা যায়নি। আগের লকডাউনে পুলিশকে লাঠিচার্জ পর্যন্ত করতে হয়েছিল। এখন লোকে লকডাউন মেনেছেন নাকি বৃষ্টির জন্য বের হননি তা এখনই বলা মুশকিল।
বারাসতের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এদিন হাতেগোনা কয়েক জন করে পুলিশকর্মী এবং সঙ্গে অল্প সংখ্যায় সিভিক ভলান্টিয়ারকে দেখা গেছে। লকডাউনে বিধাননগরের রাস্তাঘাটও ছিল শুনশান। রাস্তার গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে অবশ্য পুলিশের তৎপরতা দেখা গেছে। বসিরহাটে ইছামতি ব্রিজ, ইটিন্ডা রোড ও টাকি রোডে পুলিশ নাকা চেকিং করেছে।
ঝাড়গ্রামে পুলিশি তৎপরতা এদিনও ছিল আগের লকডাউনের মতোই। জুবিলি মার্কেট এলাকায় করোনা আক্রান্ত ধরা পড়ার পরে আগেই সেটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এদিন দেখা গেল এলাকাটি বাঁশের বেড়া দিয়ে আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে জেলার গোপীবল্লভপুর ১ নম্বর ব্লকের গোপীবল্লভপুর বাজারে একটি মহাবীর মন্দিরে রামপুজোর আয়োজন করা হয়। সেখানে বাইক মিছিল করেন বিজেপির কর্মীরা। তবে এ নিয়ে কোনও অশান্তি হয়নি।