দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিযায়ী শ্রমিকরা ফিরতে শুরু করতেই তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হল আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদ। যে শ্রমিক যে ধরনের কাজ করতে অভ্যস্ত তাঁকে সেই ধরনের কাজ দিতে চাইছে প্রশাসন। ১০০ দিনের প্রকল্প ছাড়া অন্য সরকারি প্রকল্পেও তাঁদের কাজে লাগানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এমনকি যে সব শ্রমিকের ১০০ দিনের কর্মনিশ্চয়তা প্রকল্পে (এমজিএনরেগা) জব কার্ড নেই তাঁদেরও দ্রুত জব কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আলিপুরদুয়ারে যে সব পরিযায়ী শ্রমিক ফিরছেন স্বাস্থ্য দফতর নিয়মমাফিক তাঁদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার পরে কোয়ারেন্টাইন সেন্টারে রাখবে। এঁদের সোয়াব টেস্ট নেগেটিভ এলে হোম কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হবে। তারপরে তাঁদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে জেলা পরিষদ ও প্রশাসন।
আলিপুরদুয়ার জেলা পরিষদের সভাধিপতি শীলা দাস সরকার বলেন, “এই সব শ্রমিকরা বাইরের রাজ্যে কাজ করে সংসার চালাতেন। এখানে এসে একেবারে যাতে বেকার হয়ে না যান সেজন্য জেলার সব গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধানকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তাঁদের ১০০ দিনের কাজ দেওয়ার জন্য। পাশাপাশি যাঁদের জব কার্ড নেই গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে অবিলম্বে তাঁদের জব কার্ড ইস্যু করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাঁরা টেকনিক্যাল লেবার তাঁদের সরকারি নির্মাণ কাজে নিযুক্ত করার কথা বলা হয়েছে। প্রত্যেকটি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বিষয়গুলি দেখে উপযুক্ত ব্যবস্থা যাতে নেয় সে ব্যাপারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক পরিযায়ী শ্রমিক যাতে ১০০ দিনের কাজ ঠিক মতো পান তা দেখতে প্রধানদের বলা হয়েছে।”
জানা গেছে, ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসনকে ছ’হাজার পরিযায়ী শ্রমিকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকরা জেলায় ফিরতে শুরু করেছেন। আলিপুরদুয়ারে এই সংখ্যাটা ১০ হাজার ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছে প্রশাসন। পরিযায়ী শ্রমিকদের কাজের ব্যাপারে অগ্রাধিকার দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
১০০ দিনের কাজে আলিপুরদুয়ার জেলার সুনাম রয়েছে। সেই কারণে এবারও ১০০ দিনের কাজকে হাতিয়ার করার নির্দেশ এসেছে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ সালে আলিপুরদুয়ার জেলায় ১০২.৭ শতাংশ কাজ হয়েছে। ২০১৯-২০ সালে আলিপুরদুয়ার জেলায় মোট ২ লক্ষ ২৬ হাজার ৯৪১টি পরিবারকে ১০০ দিনের প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয়েছে। ২০১৪ সালে আলিপুরদুয়ার জেলা গঠনের পর এত বেশি সংখ্যায় পরিবারকে এই প্রথম ১০০ দিনের কর্মনিশচয়তা প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয়েছে। ২০১৮-১৯ সালে জেলায় ১ লক্ষ ৬৯ হাজার ৩৭১টি পরিবারকে এই প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয়েছে। তবে ২০১৭-১৮ সালে এই প্রকল্পে জেলায় ২ লক্ষ ১১ হাজার ১৪৯টি পরিবারকে এই প্রকল্পে কাজ দেওয়া হয়েছিল। চা-বাগান এলাকার ৩৫ লক্ষ মানুষকে বছরে ১০০ দিনের বেশি কাজ দেওয়া সম্ভব হয়েছে।