দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: গালওয়ানের সংঘর্ষে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তিই হতে চলেছে উত্তরবঙ্গের সব চেয়ে উঁচু মূর্তি। আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যার সামনের প্যারেড গ্রাউন্ডে বসতে চলেছে তাঁর পূর্ণাবয়ব মূর্তি। উচ্চতা হবে ১৬ ফুট।
প্যারেড গ্রাউন্ডে মঙ্গলবার ফিতে কেটে শহিদ বিপুল রায়ের মূর্তির শিলান্যাস করেন তাঁর বাবা নীরেন রায়। এই অনুষ্ঠানে আলিপুরদুয়ারের জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা, জেলার পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি, মহকুমাশাসক শ্রী রাজেশ, আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী, রাজ্যের ভূমি ও ভূমি সংস্কার, উদ্বাস্তু, ত্রাণ ও পুনর্বাসন দফতরের উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারম্যান মৃদুল গোস্বামী, আলিপুরদুয়ার পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান দীপ্ত চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এ দিনের এই শিলান্যাস অনুষ্ঠানে শহিদের স্ত্রী রুম্পা রায়ও উপস্থিত ছিলেন। সকলেই বীর শহিদের প্রতি সম্মান জানান। রুম্পা রায় বলেন, “আগামী প্রজন্ম অমর শহিদকে ভুলবে না। তাঁরা এই মূর্তি দেখবেন, বুঝবেন এবং শুনবেন তাঁর কথা। আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তীর উদ্যোগে এই মূর্তি বসছে। আমি ওঁদের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ।”
গত ১৫ জুন লাদাখে চিনা সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে শহিদ হন ৩৫ বছরের বিপুল রায়। তাঁর বাড়ি আলিপুরদুয়ার শহরের কাছে শামুকতলা থানা এলাকার বিন্দিপাড়া গ্রামে। তাঁর মূর্তি যে আলিপুরদুয়ার শহরে স্থাপন করা হবে আগেই সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন স্থানীয় বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী। সেই প্রতিশ্রুতি মতোই এদিন মূর্তির শিলান্যাস করা হল। শুধু মূর্তি তৈরি করতেই দু’ লক্ষ টাকা খরচ পড়বে। বেদি ও তার সৌন্দর্যায়ন প্রভৃতি নানান আনুষঙ্গিক কাজে আরও তিন লক্ষ টাকা খরচ হবে। সব মিলিয়ে মোট খরচ পড়বে প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা। সৌরভ চক্রবর্তী বলেন, “আলিপুরদুয়ারের বীর সন্তান তথা শহিদ বিপুল রায় আমাদের রাজ্য তথা গোটা দেশের গর্ব। শহিদের বীরত্বের গাথা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। এই বীর শহিদকে শ্রদ্ধা জানাতে আমি মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিই। এই মূর্তি তৈরির কাজ আগেই শুরু হয়েছিল। এদিন এই কাজের শিলান্যাস হল। মূর্তি তৈরি করতে প্রায় তিন মাস সময় লাগবে।”
১৬ জুন লাদাখের গালওয়ানে ভারত ও চিনের জওয়ানদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তাতে মৃত্যু হয় এক কর্নেল-সহ ২০ জনের। তাঁদের মধ্যে বিপুল রায় আলিপুরদুয়ারের বিন্দিপাড়ার বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর মূর্তি বসানোর জন্য জুন মাসের শেষে জমি দিয়েছিল সরকার। তখনই জানানো হয়েছিল মূর্তি তৈরির পাশাপাশি বিন্দিপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে বসবে বিপুল রায়ের স্মারক।