দ্য ওয়াল ব্যুরো, আলিপুরদুয়ার: বামাল চোর ধরে বড় একটি চুরির ঘটনার কিনারা করল আলিপুরদুয়ার থানার পুলিশ। করোনা পরিস্থিতির মধ্যে এই ঘটনাকে নিজেদের বড় সাফল্য হিসাবেই তারা দেখছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২১ জুলাই আলিপুরদুয়ার শহরের অরবিন্দনগর এলাকায় একটি ইলেকট্রনিক্সের দোকান থেকে বড় তিনটে এলইডি টিভি, একটি মিউজিক সিস্টেম, একটি ইলেকট্রিক কেটলি এবং একটি আলো চুরি হয়ে যায়। চুরি যাওয়া ওই সব জিনিসের মোট বাজার মূল্য ১ লক্ষ ২১ হাজার টাকা বলে দাবি করেছিল দোকান কর্তৃপক্ষ। থানায় এ ব্যাপারে অভিযোগও দায়ের করা হয়। পুলিশ তদন্ত শুরু করে।
এই ঘটনার তদন্তের নেমে আলিপুরদুয়ার ২ নম্বর অসম গেট এলাকায় তপন রায় নামে এক জন সন্দেহভাজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ইতিমধ্যেই তাকে দশ দিন নিজেদের হেফাজতে নিয়ে চুরি যাওয়া তিনটে এলইডি টিভি সেট ও ইলেকট্রিক কেটলি উদ্ধার করেছে তারা। আলিপুরদুয়ারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ বলেন, “করোনা পরিস্থিতিতে এই ঘটনা পুলিশের একটি সফলতা। এই চুরির ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।” বিষয়টি নিয়ে মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে পুলিশ। এই সাংবাদিক বৈঠকে আলিপুরদুয়ার থানার আইসি অনিন্দ্য ভট্টাচার্য্য, আলিপুরদুয়ারের মহকুমা পুলিশ আধিকরিক (এসডিপিও) মহম্মদ কুতুবুদ্দিন খান ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খান্ডবাহালে উমেশ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ ইতিমধ্যে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে শুরু করেছে। জানার চেষ্টা করছে এই ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কিনা। এখনও যে সব জিনিস উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি সেগুলো কোথায় ও কার কাছে রয়েছে সে কথাও পুলিশ জানার চেষ্টা করছে। ওই জিনিসগুলি ধৃত ব্যক্তি বিক্রি করে দিয়ে থাকলে কাকে তা বিক্রি করেছে এবং সেই টাকা কোথায় গেল তাও পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে। চোরাই জিনিস কেনা অপরাধের মধ্যেই পড়ে।
লকডাউনের শুরু হওয়ার পরে সারা রাজ্যে অপরাধের রেখচিত্র কার্যত রাতারাতি নেমে যায়। তবে লকডাউন যত শিথিল হয়েছে অপরাধের মাত্রাও বাড়তে শুরু করেছে। লকডাউনের ফলে লোকে এখন বাড়িতেই ‘বন্দি’। এই অবস্থায় বেড়াতে যাওয়া দূর অস্ত্ লোকে এখন আত্মীয়ের বাড়িতেও যেতে পারছেন না। তাই বাড়ি ছেড়ে এখন দোকানের দিকে নজর দিচ্ছে চোরের দল।