দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: আনাজের দাম আকাশ ছোঁয়া হলেও আপাতত সরকারি উদ্যোগে ২৫ টাকা কিলো দরে আলু বিক্রি শুরু হল আসানসোল মহকুমায়। শুক্রবার গোপালপুরে সস্তায় আলু বিক্রি হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যে পুরো মহকুমায় সরকারি উদ্যোগে আলু বিক্রি হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
আসানসোলের গোপালপুরে ভ্রাম্যমান গাড়িতে করে শুক্রবার সকালে আলু বিক্রি করা হয় প্রশাসনের উদ্যোগে। করোনার আবহে বাজারের সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যেই খোলা বাজারে জ্যোতি আলুর দাম কেজি প্রতি ৩০ টাকা। চন্দ্রমুখী আলুর দাম আরও বেশি। এই পরিস্থিতিতে সরকারি নির্দেশে কৃষি বিপণন বিভাগের উদ্যোগে আলু বিক্রি করা শুরু হয়েছে। এই বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, “জেলাশাসকের নির্দেশে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য আলু বিক্রি করা হচ্ছে। সারা দিনে আসানসোলের বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ৩০ বস্তা মতো আলু বিক্রি করা হয়েছে।”
শুধু অবশ্য আলু নয়, সব আনাজের দামই আকাশছোঁয়া। স্থানীয় ভাবে উৎপন্ন ছোট বেগুন এখনও ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে ঠিকই তবে বড় বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৮০ টাকা। টম্যাটো ৮০ থেকে ১১০ টাকা, পটল ৪০ থেকে ৫০ টাকা (বাঁকুড়া থেকে আনা পটল ৫০ টাকা কেজি), ওল ৮০ টাকা, উচ্ছে ও করোলা ৪০ টাকা, ঝিঙে ৬৫ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শশা ১২০ টাকা, লাউ ৪০ টাকা, কুমড়ো ৬০ টাকা ও পেঁপে ৮০ টাকা কেজি।
টাস্ক ফোর্স জানিয়েছে, আনাজের দাম নিয়ে সরকার আলোচনা করছে। সরকার নির্দেশ দিলে সেই মতো পদক্ষেপ করা হবে।
পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আলু সাধারণত পাশের জেলা পূর্ব বর্ধমান থেকে আসে। সেখানে এখন আংশিক লকডাউন চলছে বলে আলু পাঠাতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। সেই কারণে আলুর দাম বেড়েছে। তবে কেউ আলু মজুত করে রাখলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল করা হবে বলে টাস্ক ফোর্স সতর্ক করে দিয়েছে। অন্যবার বাইরের রাজ্যের যে আলু কেনার চাহিদা থাকে এবার ততটা চাহিদা নেই। তা ছাড়া প্রয়োজনের অতিরিক্ত মজুতও রয়েছে। তা সত্ত্বেও কেন দাম বাড়াছে তা বুঝে উঠতে পারছেন না বড় ব্যবসায়ীরা। এই অবস্থায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছে বিরোধীরা। রাজ্য সরকার বাজার দর নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ বলে তারা মনে করছে।