দ্য ওয়াল ব্যুরো: এরাজ্যে যত পেঁয়াজের চাষ হয় তাতে বারো মাসের প্রয়োজনের মধ্যে মাত্র চার মাসের মেটে। বাকি আট মাসের জন্য নির্ভর করতে হয় মহারাষ্ট্রের নাসিক ও অন্য রাজ্যের উপরে। তাই অন্য রাজ্যে পেঁয়াজের দাম বাড়লে খেসারত দিতে হয় এই রাজ্যকেও। অন্য রাজ্যের উপর এই নির্ভরতা কমাতে এবার উদ্যোগী হয়েছে রাজ্য সরকার।
দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকারের কৃষি দফতরের অধীন উদ্যানপালন বিভাগ। তাদের অধীনে এনিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছে বর্ধমানে বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সটেনশন ক্যাম্পাসে। প্রাথমিক সাফল্যও মিলেছে। একটি প্রকল্পের অধীনে এখানে কৃষি খামার সংলগ্ন এলাকায় চাষ হয়েছে ৪০ রকমের প্রজাতির পেঁয়াজ। চাষে সাফল্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন কৃষি গবেষকরা।
বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগামীদিনে এই সাফল্য গোটা জেলায় ছড়িয়ে দেওয়া হবে। ছড়িয়ে দেওয়া হবে বিভিন্ন এলাকায়। তাতে উৎপাদন বাড়বে ও আমদানি নির্ভরতা কমবে। সেজন্য কমবে দামও। ইতিমধ্যেই এই নতুন প্রকল্প শুরু হয়েছে ‘মাটি তীর্থ কৃষি কথা’র পাশেই। ‘মাটি তীর্থ’ মুখ্যমন্ত্রীর স্বপ্নের প্রকল্প। প্রতি বছর এখানে ‘মাটি উৎসব’ হয়। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন যে এই প্রকল্প তাঁদের নতুন করে স্বপ্ন দেখাচ্ছে।
এরাজ্যের হুগলি এবং বর্ধমানের কালনা ও পূর্বস্থলীতে পেঁয়াজ চাষ হয়। মূলত সুখসাগর ভ্যারাইটির পেঁয়াজ চাষ হয় এখানে। যে ৪০ রকম পেঁয়াজ এখানে চাষ হয়েছে তাতে লাল জাতের মধ্যে আছে পুসা রেড, নাসিক রেড, এন ৫৩, পুসা মাধবী, আর্কা কল্যাণ, আর্কা প্রগতি, আর্কা নিকেতন, আর্কা বিন্দু প্রভৃতি। সাদা ভ্যারাইটিতে আছে পুসা হোয়াইট রেড, পুসা হোয়াইট ফ্ল্যাট। হলুদ ভ্যারাইটির মধ্যে রয়েছে স্প্যানিস ব্রাউন ও আর্লি গ্রেনো। হলুদের ফলন সাদার চেয়ে বেশি হলেও এর চাহিদা নেই বললেই চলে।
এ রাজ্যে পেঁয়াজ মূলত রবি ফসলের মধ্যেই পড়ে। আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাসের মধ্যে বীজ বোনা হয়। চারা রোয়া হয় এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে। কন্দ লাগাতে হয় পৌষ থেকে মাঘের মাঝামাঝি। রবি ফসলের এই প্রচলিত ধারা ও ধারনার বাইরে কৃষকদের বার করে আনতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। রাজ্য সরকারও চাইছে ফলন বাড়াতে এবং সারা বছর পেঁয়াজের চাষ করাতে।
এই কৃষি খামারে যে ৪০ ধরণের চাষ হচ্ছে তা বছর ভর চাষের পরিকল্পনা থেকেই করা হচ্ছে। এই প্রকল্পের সাফল্য ছড়িয়ে দেওয়া হবে বাঁকুড়া, বীরভূম, পুরুলিয়া ও পশ্চিম বর্ধমানে। পরে অন্যত্রও ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে জানান কৃষিবিজ্ঞানী তপন মাইতি। তিনি মনে করেন, “যদি চাষিদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করা যায় তাহলে অর্থকরী ফসল হিসেবে এর একটা বিরাট সম্ভাবনা রয়েছে। বাইরের রাজ্য থেকেও পেঁয়াজ আমদানি করতে হবে না। পেঁয়াজ আরও সস্তা হবে।”