দ্য ওয়াল ব্যুরো: ঘুর্ণীঝড় উমফানে ক্ষতিপূরণের টাকা বিলিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা দেখা দিল নদিয়ার শান্তিপুর থানার বেলঘরিয়া ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের ফুলিয়াপাড়া দশের মাঠ এলাকায়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ এলে তাদের ঘিরেও বিক্ষোভ চলে।
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সরকারি ভাবে কুড়ি হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে। অভিযোগ, যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের অনেকে ঘর মেরামতির টাকা না পেলেও এমন অনেকে এই টাকা পেয়েছেন যাঁদের ঘরে তেমন কোনও ক্ষতিই হয়নি। কেন এমন হয়েছে সে ব্যাপারে এলাকার বাসিন্দারা পঞ্চায়েত সদস্যের কাছে জানতে চান।
এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্য স্বপ্না বসাক বলেন, “আমি তালিকা তৈরি করে প্রধানের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। এর পরে কারা কী করেছে বা কী হয়েছে সেকথা জানি না।” যে সমস্ত মানুষকে ঘর মেরামতির টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে তাঁদের অধিকাংশেরই বক্তব্য, তাঁরাও বিষয়টি জানেন না। তাঁদের অ্যাকাউন্টে কুড়ি হাজার টাকা করে ঢুকেছে একথা তাঁরাই জানিয়েছেন।
টাকা পাইয়ে দেওয়ার ব্যাপারে পাশের ওয়ার্ডের সদস্য বিজন সরকারের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন এলাকার বাসিন্দারা। সকাল দশটা থেকে চাপান-উতোর এবং তার জেরে বচসা শুরু হয়ে যায়। পাড়ার লোকজন বিজন সরকারকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। তা নিয়ে হাতাহাতি পর্যন্ত হয়। বিজন সরকারের লোকজন মারধর করেছে বলে অভিযোগ ওঠে। বেলা দেড়টা নাগাদ শান্তিপুর থানা থেকে পুলিশ এলে পুলিশকে ঘিরে ধরে ঘণ্টা খানেক ধরে বিক্ষোভ চলে।
বিজন সরকার তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে বলেন, “কোনও মারধর হয়নি। যে ওয়ার্ডের ঘটনা আমি সেখানকার সদস্য নই। গত দু’-তিন ধরে এই নিয়ে ঝামেলা চলছে। ওরা আমাদের সদস্যের বাড়িতে ভাঙচুর করেছে। যারা ঝামেলা করেছে তাদের মধ্যে বেশ কয়েক জন দশের মাঠ এলাকার দাগি আসামি। আমার বিরুদ্ধে কোথাও কোনও দুর্নীতির অভিযোগ নেই।”
শান্তিপুরের বিডিও সুমন দেবনাথ বলেন, “এই ঘটনায় ক্ষোভ হয়েছে ঠিকই তবে প্রকৃত যাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত তাঁরা যাতে টাকা পান আমি তা দেখব।” বাড়ি সারানোর টাকা পেয়েছেন সাধনা সরকার। তিনি বলেন, “ঝড়ে আমার টিনের চাল উড়ে গিয়েছিল। টাকা পাওয়ার পরে আমি সব সারিয়ে নিয়েছি।”
এর আগে উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকেও টাকা পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। তৃণমূলের বিরুদ্ধে স্বজনপোষণের অভিযোগ তুলে বিজেপি বলেছিল প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই এই সরকারি সাহায্য পাননি।