
শেষ আপডেট: 3 July 2020 14:56
পূজা রায় নামে এক গ্রাহক অভিযোগ করেন, তাঁর সেভিংস অ্যাকাউন্টে বেশ কিছু টাকা আছে। হঠাৎ এক দিন করে পোস্টমাস্টার প্রসন্ন কবিরাজ তাঁকে বলেন বিশেষ কাজের জন্য পাসবই জমা দিয়ে যেতে হবে। তিনি এখনও সেই পাসবই ফেরত পাননি। এই ব্যাপারে দায়িত্বে থাকা পোস্টমাস্টার সুকান্ত মাঝি বলেন, “পাশবইগুলি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা আছে। বেশ কিছু গরমিল দেখা দেওয়ায় বইগুলি আটকে আছে।”
অভিযুক্ত প্রসন্ন কবিরাজ বর্তমানে আসছেন না পোস্ট অফিসে। তাই পোস্ট অফিস বন্ধ ছিল দিন পনেরো। এদিনই সুকান্ত মাঝি দায়িত্ব নিয়েছেন। প্রসন্ন কবিরাজকে না পেয়ে তাঁকেই আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা। এর আগে ভাতারের দাউড়ডাঙা পোস্ট অফিসে বছর তিনেক আগে একই ঘটনা ঘটে। গ্রাহকদের বহু টাকা খোওয়া যায়। তখন অভিযুক্ত আত্মহত্যা করেন বলে জানা যায়। ফলে এই এলাকার লোকও সিঁদুরে মেঘ দেখছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা তথা গ্রাহক গৌতম গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “এখন চাষের মরসুম আসছে। তাই আমাদের এখন টাকা দরকার। জমানো টাকা তুলতে না পারলে আমাদের টাকা ধার করতে হবে।” বাসুদা গ্রামের বাসিন্দা সনাতন দাস নামে এক ক্ষেতমজুর বলেন, “আমরা দিন আনি দিন খাই। তার মধ্যেও সাধ্য মতো টাকা ডাকঘরে জমানোর চেষ্টা করি। এখানে দশ হাজার টাকা মতো জমিয়েছিলাম। এই টাকা চলে গেলে আমার সঞ্চয়ের সব টাকাই চলে যাবে। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার কথা ভেবে এই টাকা জমানো। টাকা কবে পাব, আদৌ পাব কিনা জানি না। মেয়ের কী ভাবে বিয়ে দেব এখন সেটাই ভাবছি।”