দ্য ওয়াল ব্যুরো: খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে ফের ৫ জনের সাজা শোনাল আদালত। এদের মধ্যে তিনজনের ৬ বছরের এবং বাকি দু'জনের ৫ বছরের জেলের সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫ জনেরই ২০ হাজার টাকা জরিমানাও ধার্য করেছে আদালত। এই নিয়ে মোট ২৪ জনের সাজা ঘোষণা হয়েছে খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে।
চলতি বছর অগস্ট মাসে ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল আদালত। এরপর বিশেষ এনআইএ আদালতে ওই ১৯ জনের মধ্যে ২ মহিলা আলিমা বিবি এবং গুলশনারা বিবিকে ৬ বছরের জেলের সাজা শোনান বিচারক সিদ্ধার্থ কাঞ্জিলাল। এ ছাড়াও অসমের এক পড়ুয়া, সইকুল ইসলামকেও ৬ বছরের জেলের সাজা শোনায় আদালত। ২০ হাজার টাকা জরিমানাও হয় তাদের। পাশাপাশি জানা যায়, বাকি দোষীদের অপরাধের গুরুত্ব ও অন্যান্য পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতির বিচারে ৮ থেকে ১০ বছরের জেল হয়েছে।
খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে প্রায় ৫ বছর পর ঘোষণা হল সাজা। এই ঘটনায় মোট ৩১ জনকে গ্রেফতার করে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)। তাদেরই মধ্যে শাহনুর আলম ওরফে ডাক্তার সহ ১৯ জনকে দোষী সাব্যস্ত করে এনআইএর বিশেষ আদালত। বাকিদের বিরুদ্ধে এখনও মামলা চলছে। জানা গিয়েছে, দোষী ১৯ জনই মামলা চলাকালীন নিজেদের দোষ স্বীকার করেছে। খাগড়াগড় বিস্ফোরণ কাণ্ডে যুক্ত দোষীদের মধ্যে চারজন জঙ্গি সংগঠন জামাত-উল-মুজাহিদিন (বাংলাদেশ)-এর কট্টর সদস্য। এই বিস্ফোরণের মাস্টার মাইন্ড ছিল শাহনুর আলম। ২০১৫ সালের ৩ জানুয়ারি অসমের বরপেটা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাকে। এই বরপেটাতেই শাহনুরের বাড়ির।
২০১৪ সালের ২ অগষ্ট বেলা ১২ টা ১৫ মিনিটে কেঁপে উঠেছিল খাগড়াগড়ের হাসান চৌধুরীর বাড়ি। বাড়িটি ভাড়া দিয়েছিলেন তিনি। সেই বাড়িরই দোতলায় হয় প্রচণ্ড বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় শাকিল আহমদ ওরফে শাকিল গাজির। পরদিন ওই বাড়ি থেকে উদ্ধার হয় ৫৫ টি সকেট বোমা, প্রচুর বিস্ফোরক ও জঙ্গি গোষ্ঠীর লিফলেট। শুরু হয় তদন্ত। প্রথমে জেলা পুলিশ, তারপর সিআইডি এবং শেষে তদন্তভার নেয় এনআইএ। তদন্তের স্বার্থে দিল্লি থেকে উড়ে খাগড়াগড়ে এসেছিলেন এনএসএ প্রধান অজিত ডোভাল, এনআইএ প্রধান শরদ কুমার ও এনএসজি প্রধান জে এন চৌধুরী।