দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: পথ দুর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্র হয়ে উঠল দুর্গাপুরের কাশীরাম দাস রোড। ১৩ বছরের এক কিশোরকে পিষে অন্তত কুড়ি ফুট তাকে ছেঁচড়ে নিয়ে এগিয়ে যায় তীব্র গতিতে ছুটে চলা একটি পাথর বোঝাই ডাম্পার। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয় লোকজন ক্ষোভে ফেটে পড়েন।
আজ মঙ্গলবার সকাল সাড়ে দশটা নাগাদ ১৩ বছরের এক কিশোর বাজার করতে বেরিয়েছিল। হটাৎই দুরন্ত গতিতে ছুটে আসা পাথর বোঝাই একটি ডাম্পার কিশোরকে চাকার করে প্রায় কুড়ি ফুট টেনে নিয়ে এগিয়ে যায়। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শুভ্রজ্যোতি মণ্ডল নামে ওই কিশোরকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপরেই উত্তেজিত জনতা পাথর বোঝাই ওই ডাম্পারে ভাঙচুর করতে শুরু করে। আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় ডাম্পারের সিটে।
খবর পেয়েই বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা দাবি করতে থাকেন, যতক্ষণ ক্ষতিপূরণ দেওয়া না হবে এবং কাশীরাম রোডে ওভারলোডেড গাড়ি চলাচল বন্ধ না করা হবে ততক্ষণ অবরোধ চলবে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের থেকে জানা গেছে, শুভ্রজ্যোতি মণ্ডল নামে ওই কিশোরের বাড়ি বেনাচিতির শ্রীনগরপল্লিতে। দিন কয়েক আগে কাশীরামে মামার বাড়িতে সে ঘুরতে এসেছিল। সকালে বের হতেই এই বিপত্তি। দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকার লোকজন ছেলেটিকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে মামার বাড়িতে খবর যায়। তাঁরা হাসপাতালে পৌঁছে যান।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে ছেলেটির পেট ও তার নীচের অংশে গুরুতর আঘাত লেগেছে। কোমরের নীচের অংশে কোনও সাড় নেই। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে এ ব্যাপারে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনও বিবৃতি দেয়নি। ইতিমধ্যেই ছেলেটির বাড়িতে খবর পাঠানো হয়েছে।
ঘটনার পর থেকেই চালক ও খালাসি পলাতক। গাড়িটি আটক করে পুলিশ চালক ও খালাসিকে খুঁজছে। এই জায়গায় বেপরোয়া ভাবে গাড়ি চালানোর অভিযোগ নতুন নয়। এর আগেও দুর্গাপুরে বহু দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবারই পুলিশের আশ্বাসে অবরোধ উঠেছে। তবে এখানে ওভারলোডেড গাড়ি আসা এবং তীব্র গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধ হয়নি। দুর্ঘটনায় মৃত্যু এড়াতে এখানে অবশ্য পদক্ষেপ করেছে পুলিশ।
আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট থেকে হাসপাতালের সহায়তায় প্রাথমিক চিকিৎসার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকা চিহ্নিত করে এই কাজ শুরু হয়েছিল লকডাউনের আগে। দুর্ঘটনার পরে আহতকে ফেলে না রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা করে হাসপাতালে পাঠানোই ছিল পুলিশের লক্ষ্য। অনেক সময় শুধুমাত্র অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই রোগীর মৃত্যু হয় বলে এই পদক্ষেপ।