দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সম্প্রতি রাজভবনে দেখা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার পর বেরিয়ে এসে বলেছিলেন, বিভিন্ন প্রকল্প খাতে কেন্দ্রের কাছে বহু কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীকে তা জানিয়েছি।
কিন্তু সেই একই কথা কেন বাজেট অধিবেশনে রাজ্যপালের বক্তৃতায় নেই তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন বাম-কংগ্রেস নেতারা। বিরোধী দলনেতা আবদুল মান্নানের বক্তব্য, “রাজ্যপালের বক্তৃতা রাজ্য সরকারই লিখে দেয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রায়ই বলেন, কেন্দ্রে মোদী সরকার রাজ্যের সঙ্গে বঞ্চনা করছে। বকেয়া টাকা দিচ্ছে না। প্রকল্পের কাজে তাই দেরি হচ্ছে। মানুষের দুর্ভোগ হচ্ছে। তাই যদি হয়, তা হলে সেই বঞ্চনার কথা রাজ্যপালের বক্তৃতার বয়ানের লেখা হল না কেন? তবে কি বোঝাপড়া হয়েছে!” একই ইঙ্গিত করেন বাম পরিষদীয় দলনেতা সুজন চক্রবর্তীও।
অনেকে আশঙ্কা করেছিলেন সরকার যে বক্তৃতা লিখে দিয়েছে, রাজ্যপাল বুঝি তার বাইরে গিয়ে মন্তব্য করবেন। তাতে অস্বস্তি হতে পারে সরকারের। কিন্তু রাজ্যপাল এদিন সে সব করেননি। সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতা নির্বিবাদে পড়ে যান। তার পর স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের কক্ষে গিয়ে চা খান। সেখানে মুখ্যমন্ত্রীও ছিলেন। পরে দেখা যায়, রাজ্যপালকে হাসিমুখে বিদায় জানাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী ও স্পিকার।
এ ঘটনার পরই সাংবাদিক বৈঠক করেন বিরোধী দলনেতা ও বাম পরিষদীয় দলনেতা। তাঁরা টিপ্পনি করেন, চা খেতে খেতে আর কী বোঝাপড়া হল?
পরে আবদুল মান্নান দ্য ওয়াল-কে বলেন, “আমরা গতকালই বলেছিলাম, যতটা গর্জায় ততটা বর্ষায় না। রাজ্য সরকারের লিখে দেওয়া বক্তৃতায় যেমন কেন্দ্র বিরোধী কোনও ঝাঁঝ নেই। এমনকি নাগরিকত্ব সংশোধন আইনের বিরুদ্ধেই নমঃ নমঃ করে বিরোধিতা করা হয়েছে। তেমনই রাজ্যপালও খুশি খুশি পড়েছেন যে, বাংলায় শান্তিপূর্ণ পরিস্থিতি রয়েছে। কোথাও কোনও অশান্তি নেই। নৈহাটিতে বিস্ফোরণ, জলঙ্গীতে তৃণমূলের গুলিতে তৃণমূলের খুন হওয়া, গঙ্গারামপুরে স্কুল শিক্ষিকাকে মারধর করে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়া—এসব বুঝি মঙ্গলগ্রহে হয়েছে। এর পরেও বুঝতে হবে বোঝাপড়া হয়নি!”
অন্যদিকে সুজনবাবু বলেন, সৌজন্য-অসৌজন্যের লোক দেখানো খেলা চলছে। তাঁর ইঙ্গিত সরকার ও রাজ্যপাল বোঝাপড়া করেই বক্তৃতার বয়ান তৈরি করা করেছে। বাইরে যে সংঘাতের ভাব দেখানো হচ্ছে সেটা স্রেফ দেখানোর জন্যই।