দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার প্রবীণ কংগ্রেস নেতা আবদুল মান্নান ফুরফুরা শরিফে গিয়েছিলেন আব্বাস সিদ্দিকির সঙ্গে দেখা করতে। কিন্তু দেখা হয়নি। মর্মাহত হয়েই ফুরফুরা থেকে শেওড়াফুলি ফিরেছিলেন মান্নান। তারপর অনেকে অনেক প্রশ্ন তুলেছিলেন। তাহলে কি বাম-কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের জোট সম্ভাবনা ভেস্তে গেল?
কিন্তু বৃহস্পতিবার গর্জে উঠলেন আব্বাস। বাম ছাত্র-যুবদের নবান্ন অভিযানে পুলিশের লাঠিচার্জের অভীযী তুলে আব্বাস বললেন, ১১ই ফ্রেব্রুয়ারী বাংলার গণতন্ত্রের ইতিহাসে কালো দিন হিসাবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। একইসঙ্গে বামেদের ডাকা বনধকে সমর্থন করলেন ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্টের নেতা তথা ফুরফুরার পীরজাদা।
এদিন আব্বাস বলেছেন, "আমরা বিগত দিনে দেখেছি বর্তমান রাজ্য সরকার ও কেন্দ্র সরকার উভয়েই গণতন্ত্রের কন্ঠরোধ করে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকে দমন পীড়নের মাধ্যমে স্তব্ধ করার প্রয়াস করেছে। আজ বামফ্রন্টের ছাত্র -যুব ও জাতীয় কংগ্রেসের ছাত্র-যুব সংগঠন একত্রিত হয়ে রাজ্যে কর্মসংস্থান ও শিক্ষার দাবি নিয়ে নবান্ন অভিযানে অংশগ্রহণ করলে বাংলার সরকার যেভাবে প্রশাসনকে দলদাসে পরিণত করে নীরিহ ছাত্র-যুবদের আন্দোলনের উপর নির্মমভাবে আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে এবং জোর করে তাঁদের গ্রেপ্তার করেছে তা তীব্র ভাষায় নিন্দা জানাই। বর্তমান সরকারের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তকে ধিক্কার জানাই।"
তরুণ এই সংখ্যালঘু নেতার সাফ কথা, "আমরা সংবিধান প্রেমিক ও দেশপ্রেমিক মানুষ তাই কখনই এই হিটলারি শাসন মেনে নেব না। রাজ্য সরকারের স্বৈরাচারী শাসনের নিন্দা করছি।"
এমনিতেই বামেরা হুঁশিয়ারি দিয়েছে কাল ধর্মঘট ভাঙতে এলে ফের একবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারকে টের পাইয়ে দেওয়া হবে। তার উপর আব্বাসের এই সমর্থন বামেদের অক্সিজেন দেবে বলেই অনেকের মত। সেক্ষেত্রে শুক্রবার সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কী পরিস্থিতি হয় সেটাই দেখার।