দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রার্থী তালিকা ঘোষণার দিনই চমক দিয়েছিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ৪২টি আসনে ১৭ জন মহিলাকে প্রার্থী করেছিলেন। প্রায় ৪১ শতাংশ। আন্তর্জাতিক নারী দিবসে পদযাত্রা শেষ করে ধর্মতলার সভা মঞ্চ থেকে গর্ব করে বলেছিলেন, “এ বার এত মেয়ে!আমার গায়ে কাঁটা দিচ্ছে।“ মা-মাটি-মানুষের নেত্রী ভরসা রেখেছিলেন নিজের ‘বোন ব্রিগেডের’ উপরেই।
লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরেই বোঝা গেল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভরসা বিফলে যায়নি। ১৭টি আসনের সবকটিতে না হলেও বেশিরভাগ আসনেই জয়ী হয়েছেন দিদির বোনেরা।
এক ঝলকে দেখে নেওয়া যাক সার্বিক চিত্র।
২৩ মে নির্বাচনের ফল প্রকাশের দিন বেলা বাড়তেই বোঝা গিয়েছিল বেশ কয়েকটি আসনে জয়ী হতে চলেছেন তৃণমূলের প্রমীলা বাহিনী। ভোটে জয়ী হয়েছেন দক্ষিণ কলকাতার তৃণমূল প্রার্থী মালা রায়। জোরদার লড়াই করেছেন টলি পাড়ার দুই অভিনেত্রীও। বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বসিরহাটের তৃণমূল প্রার্থী নুসরত জাহান। সমান তালে টক্কর দিয়েছেন যাদবপুরের প্রার্থী মিমি চক্রবর্তী। এ ছাড়াও জয়ীর তালিকায় তালিকায় রয়েছেন, মহুয়া মৈত্র (কৃষ্ণনগর), শাজদা আহমেদ (উলুবেড়িয়া), অপরূপা পোদ্দার (আরামবাগ), কাকলি ঘোষ দস্তিদার (বারাসত), শতাব্দী রায় (বীরভূম), প্রতিমা মণ্ডলও (জয়নগর)।
চলতি বছর লোকসভা নির্বাচনে বেশ কিছু বদল এনেছিলেন দলনেত্রী। ১৮টি কেন্দ্রে প্রার্থী বদল করেছিলেন । এনেছিলেন বেশ কিছু নতুন মুখকেও। তার মধ্যে অবশ্যই উল্লেখযোগ্য দুই টলিউড অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী এবং নুসরত জাহান। যাদবপুর থেকে মিমি এবং বসিরহাট থেকে নুসরতকে প্রার্থী করেছিলেন দিদি। সিনেমার তারকাদের আচমকাই রাজনীতিতে আসা নিয়ে সে সময় জলঘোলা হয়েছিল অনেক। তবে ভরসা রেখেছিলেন দিদি। আর সেই ভরসারই এ দিন যথাযোগ্য সম্মান দিয়েছেন মিমি এবং নুসরত। কৃষ্ণনগরের প্রার্থীতেও বদল এনেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মহুয়া মৈত্র ছিলেন চলতি লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী। জয়ী হয়েছেন তিনিও।
মুনমুন সেনের কেন্দ্র বদল করে বাঁকুড়া থেকে সুচিত্রা-কন্যাকে এ বার দাঁড় করানো হয় আসানসোলে। সন্ধ্যা রায়কেও এ বার প্রার্থী করেননি মমতা। সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছিলেন, তাঁর সাংসদ হিসেবে পারফরম্যান্স অত্যন্ত ভাল। কিন্তু এত দৌড়ঝাঁপ করে তাঁর কাজ করতে অসুবিধে হচ্ছে। তাই তাঁকে অন্য কাজে ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছিলেন মমতা।