দ্য ওয়াল ব্যুরো: খড়্গপুরের সালুয়া সালুয়া ক্যাম্পাসে কাউন্টার ইনসার্জেন্সি অ্যান্টি টেররিস্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে মঙ্গলবার আরও ৪০ জনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে। ফলে এখানে মোট আক্রান্ত সংখ্যা বেড়ে হল ৮৬ জন। এদিন পশ্চিম মেদিনীপুরে মোট ৫৫ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর এসেছে।
গত মাসের ২৯ তারিখ থেকে রাজ্য পুলিশের সশস্ত্র বাহিনীর চারশো ছত্রিশ জন জওয়ানকে নিয়ে শুরু হয় কাউন্টার ইন্সারর্জেন্সি অ্যান্টি টেররিজম ট্রেনিং। এ মাসের ৮ তারিখ এক জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ১০ জুলাই তাঁর রিপোর্ট আসে পজিটিভ। তারপর আরও সাত জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। ১২ জুলাই দেখা যায় তাঁদের মধ্যে তিন জন করোনা পজিটিভ। ১৩ জুলাই যে রিপোর্ট আসে তাতে দেখা যায় ৪২ জন করোনা পজিটিভ। মঙ্গলবার দেখা গেল আরও ৪০ জন করোনায় আক্রান্ত।
সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় ৪৫ জনের রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে। তার মধ্যে ৪২ জনই খড়্গপুরের ইএফআর (ইস্টার্ন ফ্রন্টিয়ার রাইফেলস) কর্মী। দ্রুত তাঁদের মেদিনীপুরের আয়ুশ করোনা লেভেল ১ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এক জন আক্রান্ত ব্যক্তি বেলদার পুলিশকর্মী।
বেলদায় ওই পুলিশ আধিকারিকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসার পরে জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ি সিল করে দেওয়া হয়েছে। তিনি সেখানেই কর্মরত ছিলেন। সিল করে দেওয়া হয় জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়ি চত্বর। ফাঁড়ির সব কাজ আগামী সাত দিনের জন্য বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। ওই ফাঁড়ির বিয়াল্লিশ জন পুলিশকর্মীকে কোয়ারেন্টাইনে পাঠানো হয়। কয়েক জন আধিকারিককে আগেই কাজের সূত্রে শালবনিতে পাঠানো হয়েছিল।
ইতিমধ্যেই কন্টেনমেন্ট জোন হিসাবে ঘোষণা করা হয়েছে খড়্গপুরের সালুয়া ট্রেনিং ক্যাম্প ও বেলদা ২ নম্বর ব্লকের জোড়াগেড়িয়া ফাঁড়িকে।
সালুয়া বাজার কমিটির সম্পাদক তথা ভেটিয়া পঞ্চায়েত সদস্য রওশন লামা লামা এদিন বলেছেন, “বাজার স্যানিটাইজ করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বাজার। যেহেতু ওই বাজারে আসতেন ওই ক্যাম্পের জওয়নারা তাই বাজারের লোকেদের নমুনা সংগ্রহ করার দাবি জানানো হয়েছে।”
সালুয়ার কাছে রাস্তায় যাতায়াতের উপরেও নজরদারি রাখতে শুরু করেছে পুলিশ। থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে রাস্তায় পরীক্ষা শুরু করেছে। ডিআইজি (এপি) ইএফআর দেবাশিস বেজ বলেন, “আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। পরিস্থিতির উপর নজর রাখা হচ্ছে। যাঁরা ট্রেনিংয়ে এসেছিলেন তাঁদের মধ্যে যাঁরা অন্য ভবনে ছিলেন তাঁদের ছুটি দিয়ে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।”