দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি থেকে ফেরা রাজ্যের ২৯ জন জওয়ানের মধ্যে সাত জন করোনা আক্রান্ত। এর মধ্যে খড়্গপুরে ৬ জন ও হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় একজন। খড়্গপুরে আক্রান্তদের পাঠানো হয়েছে কোয়ারান্টাইন সেন্টারে। গত ১৪ এপ্রিল জওয়ানরা দিল্লি থেকে ফেরার পরে তাঁদের আরপিএফ ব্যারাকে কোয়ারিন্টাইনে রাখা হয় এবং তাঁদের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। বুধবার তাঁদের মধ্যে সাত জনের করোনা পজিটিভ বলে রিপোর্ট আসে।
দক্ষিণপূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম আদিত্য চৌধরি জানিয়েছেন যে বাংলা থেকে ২৯ জন দিল্লিতে গিয়েছিলেন অস্ত্র আনতে। সেই দলে অন্য রাজ্যেরও জওয়ানরা ছিলেন। সেই দলের একজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছিল ওড়িশায়। তাই ২৯ জনকেই কোয়ারান্টাইনে রাখা হয়। তাঁদের মধ্যে একজনের করোনা পজিটিভ ধরা পড়েছে উলুবেড়িয়ায়। তারপরে বৃহস্পতিবার খবর আসে খড়্গপুরে আইসোলেশনে থাকা ছ’জনের রিপোর্টও পজিটিভ।
হাওড়ার উলুবেড়িয়ায় যে আরপিএফ কর্মীর শরীরে করোনার সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাঁকে ফুলেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ ওই ব্যারাক সিল করে দেয়।
করোনা হটস্পট বলে চিহ্নিত হাওড়া শহরের আরও দুটি বাজার বন্ধ হতে চলেছে বলে প্রশাসন সূত্রে খবর। কাছাকাছি বড় মাঠ পাওয়া যায়নি বলে আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে কালীবাবুর বাজার। এবার বন্ধ করে দেওয়া হল কদমতলা বাজার ও দাশনগর বাজার। এই দুই এলাকাতে রাস্তার উপরেই বাজার বসে। ইতিমধ্যে নিকটবর্তী মাঠে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে রামরাজাতলা বাজার ও চ্যাটার্জিহাট বাজার। মিষ্টির দোকান ও মুদিখানার দোকান বেলা ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও বাজার বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে এগারোটার মধ্যেই। এদিন বাজারের বিক্রেতারা জানিয়েছেন যে তাঁরা যখন নিজেরা বাজারের জন্য জিনিস আনতে যাচ্ছেন তখন সমস্যা হচ্ছে। সকাল সাতটা থেকে সাড়ে সাতটার মধ্যে বাজার বসাতে হলে অনেক ভোরেই তাঁদের বেরোতে হচ্ছে। তখন অনেক জায়গায় রাস্তা ‘সিল’ থাকায় তাঁদের বিকল্প রাস্তা ধরতে হচ্ছে। ফলে অনেক ঘুরপথে বাজার আনতে যেতে হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কদমতলা, দাশনগর ও রামরাজাতলার বিভিন্ন অংশে ব্যারিকেড করে দেওয়া হয়। রাস্তায় যান চলাচল আরও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। পুলিশি তৎপরতাও এদিন ছিল তুঙ্গে। জগাছা অঞ্চলে পুলিশি কড়াকড়ি দেখা যায় বুধবার বেলার দিক থেকে। তারপরে রটে যায় এলাকায় কেউ করোনায় আক্রান্ত হওয়ার জন্যই আচমকা বেড়ে গেছে কড়াকড়ি। যদিও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে যে লকডাউনের সময় লোকের রাস্তায় বেরনো নিয়ন্ত্রণ করতে এই পদক্ষেপ।
হাওড়া শহরে কেন্দ্রীয় সরকারি, রাজ্য সরকারি ও বেসরকারি সমস্ত অফিস বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে মঙ্গলবার নোটিস দেওয়ার পরে বুধবারও একাধিক ব্যাঙ্কের শাখা খোলা ছিল বলে অভিযোগ। ব্যাঙ্কগুলি দাবি করে যে তারা লেনদেন করছে না, কেবলমাত্র অভ্যন্তরীণ কাজই করছে। যদিও বুধবার গ্রাহকদের ব্যাঙ্কের শাখায় গিয়ে লেনদেন করতে দেখা গেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার পুলিশের কড়াকড়ির ফলে বৃহস্পতিবার বাজারে ভিড় তুলনায় কম ছিল। বিক্রেতাদেরও মুখে মাস্ক লাগিয়ে বাজারে বসতে দেখা গেছে। পুলিশ জানিয়ে দিয়েছে যে দোকানের সামনে যাতে ভিড় না হয় এবং ক্রেতারা যাতে নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে লাইন করে দাঁড়ান তা দেখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট দোকানির। এদিন তাই অনেক সময়ই দেখা যায় যে বিক্রেতা নিজেরাই বারে বারে উঠে দেখছেন ক্রেতারা দূরত্ব বজায় রাখছেন কিনা। কালীবাবুর বাজার, কালী কুণ্ডু লেন ও আশপাশের জনবহুল এলাকায় লোকজনকে রাস্তায় তেমন দেখা যায়নি।