দ্য ওয়াল ব্যুরো: উলটপুরাণ দেখল পূর্ব বর্ধমানের ভাতার। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দিলেন ৬০০ জন।
এরাজ্যে কংগ্রেসের অস্তিত্ব সংকটে, অনেকে কটাক্ষ করে সাইন বোর্ড পার্টি বলেন। এই অবস্থায় শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে এত জনের যোগ দেওয়াকে উলটপুরাণ ছাড়া আর কী বলা যাবে!
জেলার ভাতার ব্লকের বামশোর গ্রামে শাসকদলে বড় ধরনের ভাঙন ঘটিয়ে মঙ্গলবার জাতীয় কংগ্রেসে এক সঙ্গে ৬০০ জন যোগ দিলেন ভাতারের ব্লক কংগ্রেস সভাপতি তপন সামন্তের হাত ধরে। পূর্ব বর্ধমানে দলের জেলা সভাপতি কে সেকথা জিজ্ঞেস করলে কংগ্রেসের অনেক নেতা কর্মী সেই উত্তর ঠিক মতো দিতে পারবেন কিনা সে ব্যাপারে অনেকের ঘোর সন্দেহ আছে। তবু কেন এত জন একসঙ্গে শাসক দল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দিলেন সেই উত্তর তাঁরা নিজেরাই দিয়েছেন।
মূলত পরিযায়ী শ্রমিকরা ভিন রাজ্যে থাকার সময় রাজ্যের শাসকদলের কাছ থেকে কোনও সুযোগ সুবিধা পাননি বলে অভিযোগ। তাঁরা বলেন, “জাতীয় কংগ্রেসের পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরীর অনেক সাহায্য আমরা পেয়েছি। তাই আমরা তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে জাতীয় কংগ্রেসে যোগদান করলাম।”
বামশোর গ্রামের বাসিন্দা রাজু চৌধুরী বলেন, “আমরা ভিন রাজ্য অর্থাৎ মুম্বাইয়ে কাজে গিয়েছিলাম। সেখান থেকে বারবার আমাদের গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান পরেশ চক্রবর্তীর কাছে সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলাম কিন্তু কোনও উত্তর পাইনি। জাতীয় কংগ্রেস আমাদের দারুণ ভাবে সাহায্য করেছিল ভিন রাজ্যে। পাশাপাশি বাড়ি ফিরতেও সাহায্য করেছিল। তাই আমরা কংগ্রেসে যোগ দিলাম।”
এদিন যোগদান পর্বে মানা হয়নি সরকারি নির্দেশিকা। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা থেকে মাস্ক পরা – কোনও কিছুই ছিল না। যোগদান অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাতার বিধানসভা কেন্দ্রের জাতীয় কংগ্রেস সভাপতি তপন সামন্ত, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য যুব আইএনটিইউসির চেয়ারম্যান প্রশান্ত সামন্ত ও ভাতার ব্লকের অন্যতম জাতীয় কংগ্রেসের নেতা বজলুর রহমান করিম।
এলাকার তৃণমূল বিধায়ক সুভাষ মণ্ডল বলেন, “এই রকম ঘটনা আমার জানা নেই।” জেলার যুব নেতা শান্তনু কোনার বলেন, “কোনও একটা ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়তো অভিমানে তাঁরা চলে গেছেন। ওঁদের সঙ্গে কথা বলে আমরা দলে ফিরিয়ে আনব।”
জেলা কংগ্রেসের যুব নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, “মানুষ লকডাউনের সময় পিরিয়ডে বুঝেছেন অসময়ে তাঁদের পাশে কংগ্রেস ছিল। ছিলেন কংগ্রেস নেতা অধীররঞ্জন চৌধুরী। তাই তাঁরা শাসকদল ছেড়ে কংগ্রেসে এলেন।”
রাজ্য সরকার যখন রাজস্থানের কোটা থেকে ছাত্রদের ফেরাতে চায়নি তখন উদ্যোগী হয়ে তাঁদের ফেরানোর ব্যবস্থা করেছিলেন অধীররঞ্জন চৌধুরী। আবার এরাজ্যে ট্রেনে করে শ্রমিকদের ফেরানোর ব্যাপারেও বার বার রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে ব্যবস্থা করেছেন তিনি।