দ্য ওয়াল ব্যুরো, পশ্চিম বর্ধমান: নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও আসানসোল উত্তর থানার একটি স্কুলের অফিস ঘরের তালা ও আলমারি ভেঙে চুরি হয়ে গেল ৫১ হাজার টাকার বেশি। আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের কন্যাপুর ফাঁড়ি সংলগ্ন সেনরালে অঞ্চলের কন্যাপুর হাই স্কুলের এই ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা নাগাদ স্কুলে যাওয়ার সময় স্কুলের অফিস ক্লার্কদের থেকে চুরির খবর পান প্রধানশিক্ষক। স্কুলে পৌঁছে তিনি অফিসের দরজার তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। এরপরে অফিসে ঢুকে দেখেন সমস্ত নথিপত্র লণ্ডভণ্ড অবস্থায় রয়েছে। তখন তিনি পাশের কন্যাপুর ফাঁড়িতে খবর দেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তারা প্রাথমিক তদন্ত করার পরে চুরির ঘটনার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন প্রধান শিক্ষক। এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
স্কুল সূত্রে জানা গেছে দশম ও একাদশ শ্রেণীর পড়ুয়াদের ভর্তি চলছে। সেই টাকা স্কুলে জমা পড়েছিল। সাড়ে তিনটের সময় ব্যাঙ্ক বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে টাকা ক্যাশবাক্সে রাখা ছিল। স্কুল বন্ধের আগে ক্যাশবাক্সটি আলমারিতে রেখে দিয়ে তালা লাগিয়ে দেওয়া হয়। তাছাড়া স্কুলে এক জন নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। নিরাপত্তারক্ষী অবশ্য কোনও দায় নিতে চাননি। তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেছেন। নিরাপত্তারক্ষী থাকা সত্ত্বেও কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
কন্যাপুর ফাঁড়ির তদন্তকারী আধিকারিক কার্তার সিং বলেন, “আনলক পিরিয়ড শুরু হলেও সন্ধ্যার পর থেকে লোকজন রাস্তায় কমই বের হচ্ছেন। স্কুলে নিরাপত্তারক্ষীও ছিলেন। এই অবস্থায় কী ভাবে অফিস ঘরের তালা ভেঙে এবং আলমারির তালা ভেঙে এতগুলো টাকা চুরি হয়ে গেল তা আমরা তদন্ত করে দেখছি।” পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলেও এই ঘটনায় এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
লকডাউনের সময় অপরাধের গ্রাফ নিম্নমুখী থাকলেও ক্রমেই তা বাড়তে শুরু করেছে। গত দুই সপ্তাহে আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট অঞ্চলে একের পর চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। তাতে বেশ উদ্বিগ্ন সাধারণ মানুষ। সপ্তাহ দুয়েক আগে কল্যাণপুরে লক্ষাধিক টাকা চুরি হয়েছে একটি বাড়ির চিলেকোঠার অ্যাজবেস্টস ভেঙে। গত মাসের শেষ দিনে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে একটি মদের দোকানে ডাকাতি হয়।